বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে আতঙ্ক

সারাবাংলা

আকাশ হোসেন, আশাশুনি থেকে:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বিভিন্ন নদ-নদীতে জোয়ারের জল বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ১০টি পয়েন্টে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে ও ওভারফ্লো হয়ে কয়েকটি গ্রাম ও শত শত বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে থাকায় এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। গত বুধবার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব নদ-নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে দুটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ওভারফ্লো হয়ে ভেতরে জল প্রবেশ করতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে জল ভেতরে ঢুকতে শুরু করে। প্রায় ৩০০ ফুটের মতো বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যতলা, চাকলা, কল্যাণপুর, রুইয়েল বিল, আনুলিয়া ইউনিয়নের নাকনা সহ ৬টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ওভারফ্লো হয়। নদীর জল কুড়িকাহুনিয়া, চাকলা, সুভদ্রকাটি, রুইয়ের বিল, হরিশখালি, সোনাতনকাটি, নাকনা গ্রামে জলমগ্ন করে। আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া, জেলেখালী, মানিকখালী, শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালি, পুইজালা, কাকড়াবুনিয়া, কলিমাখালী, হাজরাখালী, বড়দলের কেয়ারগাতিসহ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙে ও ওভারফ্লো হয়। ইউপি চেয়ারম্যান, পাউবোর কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ রক্ষার কাজে এগিয়ে যান। ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ওভারফ্লো রোধ ও ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়। আশাশুনি উপজেলায় ১১০ কিলোমিটার পাউবোর বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বাঁধের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের পর বছর এই ২০ কিলোমিটার বাঁধ টেকসই করার দাবি জোরালোভাবে উচ্চারিত হলেও অদ্যাবধি সেটা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতাপনগরে জাইকার উদ্যোগে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। ফলে সেখানে বাঁধ ওভারফ্লো ও ভাঙনের ঘটনা ঘটে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের লেবেল উঁচু না করা হলে এমন ঘটনা প্রতি বছর ঘটতেই থাকবে বলে তারা মনে করেন। আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বলেন, ইয়াসের কারণে এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ রক্ষার জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আমরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধ রক্ষার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছি। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন খান বলেন, কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং ওভারফ্লো হয়েছে। কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ রক্ষা করা হবে। সাইক্লোনের ছোবল থেকে প্রাণহানি রোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও ৮০টি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল দল সব এলাকায় দায়িত্বরত আছে। জেলা প্রশাসন মহোদয় দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তার জন্য প্রতি ইউনিয়নে ২৫ হাজার টাকা করে রিজার্ভ বরাদ্দ দিয়েছেন। গো-খাদ্য বাবদ ১ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ১ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসও গোলাম রাবাবী ও আলমগীর হোসেন জানান, প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আশাশুনি সদর ইউনিয়নে অনেক স্থনে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও ওভারফ্লো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষা ও ওভারফ্লো ঠেকাতে কাজ করা হচ্ছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *