ব্রাহ্মণবাড়িয়া শতভাগ পাঠ্যবই এখনও পৌঁছেনি

সারাবাংলা

আব্দুর রহমান বুলবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে:
নতুন বছর শুরু বাকি মাত্র একদিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখনো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছেনি শতভাগ পাঠ্যবই। বুধবার পর্যন্ত জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদার মাত্র ১৬ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭৪ দশমিক ০৬ শতাংশ পাঠ্যবই পৌঁছেছে। তবে প্রাক-প্রাথমিক শতভাগ পাঠ্যবই জেলায় পৌঁছেছে। নতুন বছরের প্রথমদিনে শতভাগ শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পাবেন না বলে শঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য জেলায় লক্ষ্যমাত্রা বা চাহিদার ৮৩ হাজার ১২২টি বই পৌঁছেছে। অপরদিকে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের জন্য ২৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩০টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। মোট চাহিদার ৭৪ দশমিক ০৬ শতাংশ পাঠ্যবই জেলায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাহিদার ২৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩০টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩১০টি বই পেয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মাধ্যমিক, দাখিল ও ইবতেদায়ী পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪২ লাখ ১২ হাজার ৯২টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের চাহিদার ৩৩ লাখ ৯১ হাজার ১৩৮টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে বিকেল পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার ১২৯টি বই এসেছে। ইবতেদায়ীর শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদার দুই লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ পাঠ্যবইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৩৭২টি বই। আর দাখিলের জন্য পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৪টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু একটি বইও আসেনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, করোনার কারণে স্ব-স্ব বিদ্যালয়েই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন। তবে প্রাক-প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যেহেতু ছোট তাই তাদের সঙ্গে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসতে পারবেন। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। গত শনিবার থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বই পাঠানো শুরু হয়েছে। নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই বই বিতরণ শুরু হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উদ্দিন বলেন, জেলায় মাধ্যমিক, দাখিল ও ইবতেদায়ীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৪২ লাখ ১২ হাজার ৯২টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত আমরা চাহিদার ১৬ দশমিক ৪২ শতাংশ পাঠ্যবই পেয়েছি। তবে বই আসছে। নতুন বছর শুরু কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা সব শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে পারবো। কোনো ধরণের সমস্যা হবে না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *