ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সড়ক নিয়ে জটিলতায় জলাবদ্ধতা ॥ জলবন্দি শতাধিক পরিবার ভোগান্তি নিয়ে কাটছে দিন

সারাবাংলা

আব্দুর রহমান বুলবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৌর এলাকার ভাদুঘরে সড়ক নিয়ে বিরোধের জের ধরে জল চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকার ফাটা পুুকুরপাড় পশ্চিম পাড়ার শতাধিক পরিবার জলবন্দি হয়ে দুর্ভোগ ও দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট-চট্টগ্রাম হাইওয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর ১নং মৌজায় বর্তমানে ম্যাপে ৭৫৭ দাগের মধ্যে রাস্তা ৪ ফুট প্রস্থ লম্বালম্বি ভাবে ফাটা পুকুর পাড় হাইওয়ে রাস্তা থেকে পূর্ব পশ্চিমে রাস্তাটি অবস্থিত। ৮৮ সালের প্রথমার্ধে জায়গাটি দিয়ে সবুজ প্রকল্প নামে ইরিগেশন জলের প্রকল্প কুরুলিয়া খাল থেকে জল উত্তোলন করে ড্রেনেজের মাধ্যমে জল নেওয়া হত। তবে বর্তমানে সেখানে জনবসতি হওয়ায় এখানে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মান করা হয়। এলাকার মোঃ বশির আহমদ খান, আইনাল মিয়া ও মুসলিম মিয়া জায়গাটির মালিক বলে দাবী করেছেন। এই সড়কটি দিয়েই চলাচল করতেন এলাকার লোকজন। তবে চলাচলের এই রাস্তাটি অধিকতর সরু থাকায় এলাকার বাসিন্দারা সড়টি প্রশস্থ করতে নানা উদ্যোগ গ্রহন করে ব্যর্থ হয়। মানুষের চলাচলের পথটি নিয়ে বহুবার সালিশ হলেও বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানান, সমস্যা সমাধান না হওয়ায় প্রায় দু’মাস ধরে তাদের জলবন্দী অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার জল বাসা বাড়িতেও উঠে গেছে। এতে করে ডেঙ্গুর প্রকোপকালীন সময়ে শঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী বশির আহমদ জানান, এটি এক সময় সেচ প্রকল্পের ড্রেন ছিল। দু’পাশের জমি মালিকদের কাছ থেকে এই জায়গার নেয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি বর্তমানে নেই। তবে ড্রেন দিয়ে এলাকাবাসীর জল নিস্কাশনসহ জমি চাষাবাদ করে থাকে। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে জল চলাচলের পাইপ দিয়ে জল চলাচল স্বাভাবিক রেখে চলাচলের জন্য ব্যবাস্থ করে ছিলাম। বশির আহমদ আরো দাবী করেন, স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহির মিয়া, মো. মুজিবুর ও মাহতাব মিয়া রাস্তার উপর বালি ফেলায় জল নিষ্কাশনের পথটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় এলাকাবাসীর জল নিষ্কাশনও হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা মাহতাব মিয়া বলেন, ভূমির ৪০জন মালিক দলিল করে রাস্তা দিয়েছে। আমরা কোন রাস্তা বন্ধ করি নাই এবং জল চলাচল বন্ধ করি নাই। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা রাস্তার জন্য টাকা দাবী করছে। ভূমি মালিকরা যার যার জায়গার সামনে ভরাট করায় চলতি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে মামলা চলমান। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনলেও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *