ব্লগার দীপন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

আইন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় আট আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি (ডেথ রেফারেন্স) পাঠানো হয়েছে হাইকোর্টে।

আজ বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

আইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন, তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

প্রায় ছয় বছর পর গত বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় দেওয়া হয়। মামলার আট আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। তাঁরা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে জানানো হয়।

দণ্ডিতদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান ও সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ দুজন পলাতক। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া আসামিদের সবাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বাকি সাতজন হলেন মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আব্দুল্লাহ।

দেশে লেখক, প্রকাশক, ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে হত্যা করা হয়। রাজধানীর শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ সুপারমার্কেটের তিনতলায় নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে কুপিয়ে, গলা কেটে তাঁকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল আনসার আল ইসলাম। একই দিন লালমাটিয়া এলাকায় শুদ্ধস্বর নামের একটি প্রকাশনীর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।

জাগৃতি ও শুদ্ধস্বর প্রকাশনী লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করে। অভিজিৎকেও একই বছর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আক্রান্ত হন তাঁর স্ত্রীও। এই ঘটনায়ও আনসার আল ইসলামের নাম আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে দীপন। দুই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরুর এক বছর তিন মাসের মাথায় আলোচিত এই মামলার রায় হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *