সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বড়া তৈরির ধুম

ডিসেম্বর ৫, ২০২১

আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা থেকে
মাসকলাই ডালের বড়া তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে গাইবান্ধার কয়েকটি ইউনিয়নের কারিগররা। এ ডালের বড়া খুবেই সুস্বাদু। ডালের বড়ার চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন কারিগররা। নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন গ্রামের নারী। তবে বড়া তৈরির কারিগরদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা বিসিক কর্মকর্তা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ভোর থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন গাইবান্ধা সদরের খামার বোয়ালী, কামারজানির নতুনবন্দর,সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ীর উজিরের বাইগুনি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ।মাসকলাই ডাল রাতে যাতায় পিশে তা ভিজিয়ে রাখতে হয়। সকালে তা ফেটিয়ে ছোট ছোট মাস কলাইয়ের বড়া বানিয়ে বাঁশের চালা কিংবা কাপড়ের ফ্রেমে আটকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার পর দু’একদিন রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়।সেই শুকনো বড়া বাড়ি থেকেই খুচরা ও পাইকারী বিক্রি হয়। সাড়া বছর এ কাজ করেই জীবন পাড় করছেন তারা।সারা বছরে বড়া তৈরি হলেও শীতে দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে ডালের বড়া। ডালসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় লাভ কম হয়। যেরকম পরিশ্রম আর সময় ব্যয় হয় তার থেকে তেমন একটা আয় হয়না। তবে সরকারি ভাবে আধুনিক যন্ত্র পেলে উপকৃত হতো। তারপরেও বংশ পরস্পরায় পেশাকে টিকিয়ে রাখার কথা জানান কারিগররা।
প্রতিদিন ১০ কেজি মাসকলাই ৬০০ টাকায় কিনে বড়া তৈরি করার পর শুকনো বড়া হয় ৮ কেজি। শুকনো বড়া পাইকারী ভাবে ১শ থেকে ১শ২০ টাকা কেজি দরে ৮শ টাকা বিক্রি করেন গ্রামের মহিলা কারিগররা।তা থেকে প্রতিদিন এ কাজ থেকে ২শ৫০ টাকা লাভ হয়।৩ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা যায় বড়া তৈরির ব্যবসা ।প্রতিমাসে লাভ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।
গাইবান্ধার সদর উপজেলার খামার বোয়ালীর আজাদ বলেন, আমরা ১৫/২০ বছর থেকে এ ব্যবসা করছি। এখন পুরানা ব্যবসা ছাড়তেও পারি না। মহিলা মানুষের বাড়িত বসিতো লাভ নাই। বড়া তৈরি করে যেটাই আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে।তারা অনেক কষ্ট করে বড়া তৈরি করছে। আধুনিক যন্ত্র থাকলে এত কষ্ট হতো না। পরিশ্রম অনুযায়ী তারা পারিশ্রমিক হচ্ছে না।
একই গ্রামের মজিদা বেগম বলেন,বাড়িতে সব সময় বসে থাকি।এখন আর আগে মতো একজনার টাকা দিয়ে সংসার চলে না।তাই আমরা অবসর সময় গুলো কাজে লাগাই। কখনো গরু,ছাগল,কখনো বড়া তৈরিতে ব্যস্ত থাকি।দিনে শেষে আমাদের হাতে আসে ২শ থেকে ৩শ টাকা।তাই দিয়ে কখনো ছেলে ,মেয়েদের স্কুল কলেজের বেতন দেই কখনো আবার তাদের খাবার কিনে নিয়ে আছি।
গাইবান্ধার বিসিক জেলা কার্যালয় সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রবীন চন্দ্র রায় জানান,এই ডালের বড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটা বর্তমানে দেশ থেকে বিদেশেও রপ্তনী হচ্ছে। তারা ঋণের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। আমরা বড়া তৈরির কারিগরদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
সর্বশেষ

আইভীর হ্যাটট্রিক জয়

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা প্রতিদিন অনলাইন|| নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ফের নির্বাচিত হয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। টানা

আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটির শপথ

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের (এবিপিসি) নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গত

১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের এখনই ভ্যাকসিন নয় : শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের এখনই ভ্যাকসিন নয়। এজন্য কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31