ভলগা থেকে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল মোংলায়

জাতীয়

অনলাইন ডেস্ক : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মূল যন্ত্রাংশ নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা পারমাণবিক চুল্লি এবং একটি স্টিম জেনারেটর রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নভেম্বরে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল এবং স্টিম জেনারেটরের চালান বাংলাদেশে সফলভাবে পৌঁছানো এক যুগান্তকারী ঘটনা। এটি রূপপুর এনপিপির অগ্রগতিতে নতুন মাইল ফলক’।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, সমুদ্রপথে গত সোমবার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল এবং একটি স্টিম জেনারেটর বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্র বন্দরে বহির্নোঙ্গর করে। মঙ্গলবার এ চালান মোংলা বন্দরে পৌঁছায়। তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর মোংলা বন্দর থেকে এটি যাত্রা শুরু করে নদীপথে চাঁদপুর হয়ে ২১ নভেম্বর প্রকল্প এলাকা রূপপুর নৌ-বন্দরে এসে পৌঁছাবে।
সূত্র জানায়, রুশ নকশা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পের দু’টি ইউনিটেই ‘থ্রি প্লাস’ প্রজন্মের সর্বাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর’ স্থাপিত হবে। রিয়্যাক্টরগুলোর কার্যকাল ৬০ বছর, যা প্রয়োজনে আরও ২০ বছর বৃদ্ধি করা যাবে।
জানা যায়, ভেসেল জেটিতে নামানোর জন্য ৩০৮ টন ধারণ ক্ষমতার দু’টি ক্রেন বানানো হয়েছে। এই ক্রেন দু’টি অ্যাসেম্বেল করার জন্য আরও ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার একটি ক্রেন আনা হচ্ছে। ভেসেল স্থাপনের জন্য চুল্লির কাজও প্রায় শেষ।

আর্থিক বিবেচনায় রূপপুর এনপিপি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাশিয়া ৯০ শতাংশ দিচ্ছে ঋণ হিসেবে, যা প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পরবর্তী ২৮ বছরে পরিশোধ করা যাবে। প্রকল্প ব্যয়ের অবশিষ্ট ১০ শতাংশ অর্থ যোগান দেবে বাংলাদেশ। রূপপুর দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। কেন্দ্রটির সব যন্ত্রপাতি তৈরি ও সরবরাহ ও নির্মাণে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশে দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বলে আশা করছে সরকার। দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *