ভাঙা ব্রিজে পারাপার

সারাবাংলা

গাজী মাহমুদ পারভেজ, গজারিয়া থেকে
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী সিএমডির ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের দুইপাশ এবং মাঝ বরাবর সহ একাধিক স্থানে স্টিল প্লেটের একাধিক অংশ ক্ষয়ে গেছে। প্লেটের ঝালাই ছুটে গিয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিনত হয়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ী সহ জামালদীর এই প্রধান সড়কটিতে কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে।
জামালদীর এই ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি দিয়ে চলছে দেশের সুনামধন্য কয়েকটি ইন্ড্রাস্টিয়াল কোম্পানির পণ্যবাহী ট্রাক, কন্টেইনার সহ আরও অনেক হেভি ওয়েট গাড়ীসহ সিএনজি চালিত অটোরিকশাও। যেকোনো মুহূর্তে ব্রিজটি ধসে পড়ে হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ১৯৯৫ সালে ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে এলজিইডির তত্ত্ববধায়নে এ ব্রীজটি নির্মাণ হয়। সময়ের পরিকল্পনায় দেশের অন্য স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হলেও এই ব্রীজটি অবহেলিত থেকে যায়। যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি না থাকার কারণে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বছর দুয়েক আগেই এই পুরোনো সেতু নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এরপরও সেতুর সংস্কার কাজ করা হয়নি। মধ্যে মধ্যে স্টিল সিট ধারা কোনো রকমভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলাচলের উপযোগী করলেও অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক কন্টেইনার যাতায়াতের ফলে পুনরায় নষ্ট হয়ে যায়। হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চল ইকোনমিক জোনের বিভিন্ন পরিবহন একটি ঝুঁকির্পূণ ক্ষতিগ্রস্ত স্টিলের ব্রীজ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াতে প্রায়ই অনাকাঙ্খিত র্দূঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল সাধারণ যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য কিন্তু বর্তমানে এলাকায় একাধিক মিল ফ্যাক্টরির মালবাহী কন্টেইনার, ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আরও জানায়, এই সেতুটি পূর্ণ সংস্কার বা নতুন করে বিকল্প সেতু নির্মাণ করা একান্তই প্রয়োজন। কেননা বর্তমান সময়ে এই ইউনিয়নে দেশের স্বনামধন্য একাধিক মিল ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছে। তাদের ভারী যানবাহনে রাস্তা ও সেতুটি দিয়ে চলাচল একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যদি এখানে বিকল্প সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে এতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলে এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হোসেন্দী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু জানান, এই ব্রীজটি সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে মাসিক উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করেছি। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি জানিয়েছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ৪৫ মিটার দীর্ঘ বেলি ব্রিজের দুইপাশে প্লেট ও মাঝখানের কিছু অংশ ডেবে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলছে কোম্পানির মালবাহী ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও জিপ গাড়ি। স্থানীয়রা জানান, হোসেন্দী ইউনিয়নে সিটি গ্রুপের মালবাহী কন্টেইনার ও ট্রাক এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে যেইভাবে আসাযাওয়া করে, বিকল্প ব্রিজ না থাকায় মানুষের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে বেইলি ব্রিজ পুর্ণ সংস্কার করা উচিত।
এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এইচ আর এডমিন) মোহাম্মদ শফিউল্লাহ খান বলেন, এই ব্রিজ দিয়ে চলাচলের সুবিধার্থে সিটি গ্রুপের পক্ষ থেকে আমরা কিছুদিন পরপরই ব্রিজটি সংস্কার করে থাকি। পরিকল্পনা চলছে এই ব্রিজটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়ার। চলাচলের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে টিকে গ্রুপ, সামুদা কেমিক্যাল ও সুপার বোর্ড এর যৌথ উদ্যোগে বেশ কয়েকবার যান চলাচলের উপযুক্ত করলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অভাবে তার দেখভাল করা যায়নি। হোসেন্দী ইউনিয়নের একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা বলেন, এই স্টিলের ব্রিজটি ভেঙে গেলেও করার কিছু নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা ব্রিজ দিয়েই পারাপার করতে হবে গাড়ি নিয়ে। যখনই গাড়ীগুলো লোড নিয়ে সেতুর উপর দিয়ে আসাযাওয়া করে তখনি সেতুটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সম্পর্কে এলজিইডির গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কয়েক হাজার মানুষ ও ছোট বড় যানবাহ ব্রীজটি ব্যবহার করেন। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর নিয়েছেন। ব্রীজটি সংস্কারের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত এ অর্থবছরে ব্রীজটি সংস্কার নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *