ভাতা একজনের পাচ্ছে অন্যে

সারাবাংলা

রফিকুজ্জামান, চাটখিল থেকে
নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারী ভাতার টাকা একজনের বদলে অন্যজনের মোবাইল ফোন নাম্বারে চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকে কিস্তি হারানোর অভিযোগ করছে। এসব ভুক্তভোগী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় ও সমাজসেবা অফিসে দৌড়াতে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিনিধির কাছে তাদের বক্তব্য ব্যাক্ত করেন। চাটখিলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টুনির আওতায় অস্বচ্ছ বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতদরিদ্রের সংখ্যা ১৫,১২০ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতার তালিকায় আছেন ৮,১৭৪ জন। বিধবা ভাতায় ৩,৫৬৭, প্রতিবন্ধী ৩ হাজার ২৫৭ ও শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় ৫০ জন।
সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সামনে লোকজনের ভিড়। তাদের বেশিরভাগের ভাতার টাকা অন্যের মোবাইল ফোন নাম্বারে চলে গেছে। কেউ কেউ কিস্তির টাকাও পাননি। এইসব ভাতাভোগী সরকার থেকে প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা পান। তিনমাস পর ১ হাজার পাঁচশ টাকা ও ছয় মাস পর ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। উপজেলা ৩নং পরকোট ইউনিয়ন, ৬নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন, ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন, ৪নং বদলকোট ইউনিয়ন সহ প্রায় ১ থেকে দেড়শ ভাতাভোগীর টাকা অন্যজনের ফোনে চলে যায়। যার ফলে ভুক্তভোগী সদস্যগণ উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও ইউপি অফিসে ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নিজেদের কিছু করার নেই বলে ভুক্তভোগীদের বলে থাকেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন ব্যাংকের মাধ্যমে যতোদিন এই ভাতা দেওয়া হয়েছে ততোদিন আমরা সঠিকভাবে টাকা পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। নগদ একাউন্ট খোলার পর থেকে আমাদের টাকা আমাদের নাম্বারে না এসে এলাকার অন্য ব্যক্তিদের নাম্বারে গিয়ে আমাদের ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। এই সমস্যা নিয়ে নগদের এরিয়া ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সমাজসেবা অফিস থেকে আমাদের কে যে নাম্বার দেওয়া হয় আমরা সেই নাম্বার অনুয়ায়ী কারজ করছি। এর মধ্যে কিছু ভুলের অভিযোগ আসলে আমরা সেটা ঠিক করে দেবো বলে ঢাকা প্রতিদিনকে অবগত করেন।
চাটখিল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলী হোসাইন বলেন, মাঠ পর্যায়ে মোবাইল ফোন নম্বরগুলো যাচাই-বাছাই করে নগদের হিসেব খোলার কথা ছিল। নগদের অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে হিসাব খোলার কারণে এই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে এলে আমরা ভুক্তভোগীদের টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *