ভারতজুড়ে ক্ষোভ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দলিত সম্প্রদায়ের নারী। মঙ্গলবার সকালে, দিল্লির সফদর জং হাসপাতালে মারা যান ২০ বছর বয়সী ওই নারী।

দলবদ্ধ ধর্ষণের পর দলিত নারীর মৃত্যুর খবরে দেশটি জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। দলিতরা দেশটি জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাই জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ১০ দিনের মধ্যে কাউকে আটক করা হয়নি। ১৪দিন লড়াই করে ওই নারী জীবনযুদ্ধে হেরে যান বলেও জানান তার ভাই।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকায় দলিত শ্রেণির মানুষের ওপর অব্যাহতভাবে অত্যাচার করে আসছিল। নানাভাবে সে তাদের বিরক্ত করতো বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। দলিতরাজনীতিবিদ উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রী মায়াবতী এক টুইটে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেয়া। দ্রুত বিচারিক আদালতে অভিযুক্তদের কঠোর সাজা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

সাবেক মুখমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেন, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বর্তমান রাজ্য সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা নারীদের অধিকারের বিষয়ে বরাবরই উদাসীন।

গত গত ১৪ই সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশে হাতারাস এলাকায় নিম্নবর্ণের ওই নারীকে ধর্ষণ ও নিপীড়ন চালায় উচ্চবর্ণ হিন্দুদের চার ব্যক্তি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার ধর্ষককে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে দিল্লির সফদর জং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিজেপির রাজ্য সরকার। বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা বরাবরই নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে দলিতরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *