ঢাকাপ্রতিদিন প্রতিবেদক : গত কোরবানি ঈদে গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু বেঁচা বিক্রিতে ভালো লাভ করায় এ বছরও খামারিরা ঝুঁকেছেন এই ব্যবসায়।এ বছর রংপুর বিভাগের আট জেলায় চাহিদার চেয়ে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। ক্রেতা বিক্রেতার সুবিধার্থে বিভাগের আট জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ২৯৫টি হাটে এসব পশু কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হবে। তবে, অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে যেন ভারতীয় গরু এনে হাটে বিক্রি করতে না পারে সেই দাবি তুলেছেন স্থানীয় খামারিরা।
তাদের দাবি, অন্যান্য বছরগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাঝেও বিভিন্ন হাটে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি ছিল বেশ। এ বছরও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে উদ্বৃত্ত হওয়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হবে মৌসুমী ব্যবসায়ী ও খামারিদের। বিভাগের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্ত রয়েছে। এসব সীমান্তে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো কঠোর হবার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিভাগের আট জেলায় ১৪ লাখ ১২ হাজারের বেশি কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন ছোট-বড় খামারির মাধ্যমে ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৯০টি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা ও ভেড়াসহ কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। রংপুরে কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৫২টি। প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩১২টি।উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬১টি।
গাইবান্ধা জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩০৫টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭টি। জেলায় চাহিদার চেয়ে ৬৯ হাজার ৯৭২টি কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। ২ লাখ ২২ হাজার ৮৪০টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৮৬টি পশু।জেলায় ১ লাখ ৭ হাজার ৬৪৬টি কোরবানির পশু বেশি রয়েছে।
নীলফামারীতে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৬৬টি পশুর চাহিদা রয়েছে। সেখানে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৫৭টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৫ হাজার ৯৫১টি কোরবানির পশু। লালমনিরহাটে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৭টি চাহিদার মধ্যে প্রস্তুত ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১টি। অতিরিক্ত রয়েছে ৯০ হাজার ৮৫৪টি। দিনাজপুরে চাহিদা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৬টি, প্রস্তুত ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮৫টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৯ হাজার ৮৩৯টি।
ঠাকুরগাঁও জেলায় ৭৫ হাজার ৩৬১টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত ৯০ হাজার ৮৮৬টি। অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৫২৫টি। পঞ্চগড়ে চাহিদা ১ লাখ ৪ হাজার ৩০০টি। ১ লাখ ১৪ হাজার ১৫৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। উদ্বৃত্ত ৯ হাজার ৮৫৬টি।
রংপুরের আমতলী এলাকার খামারি কাচু মিয়া বলেন, আমার ৬টি গরু রয়েছে। গতবার তিনটি ছিল। দাম বেশ ভালো পাইছি। এবারও ভালো দাম পাবো বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার খাবারের দাম বেশি ছিল। সেই কারণে দামও একটু বেশি হবে।
রংপুর ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসিফুল ইসলাম বলেন, দেশীয় এবং প্রান্তিক খামারিরা এই বছরটিকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখে। অনেকে পুরো বছর কষ্ট করে। বর্ডার দিয়ে গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ভারতীয় গরু ঢুকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের খামারিরা।
সংগঠনটির সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন বলেন, এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। গরুর ট্রাক পথে আটকানো যাবে না। ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা যাবে না, আমরা এই সহযোগিতা চাই।
ঢাকাপ্রতিদিন/এআর