ভালুকায় শিল্পপতির দুই পা কর্তন

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম, ভালুকা থেকে
ময়মনসিংহের ভালুকায় গত ১৪ জুলাই কুপিয়ে আর্টি ডাইং মিলের এমডি আব্দুর রাজ্জাক এর দুই পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও আর্টি মিলের ডিএমডি তৌফিকুর রাজ্জাক।  রোববার বেলা ১১টায় উপজেলার কাঠালীস্থ আর্টি কম্পোজিট মিলের হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে তৌফিক রাজ্জাক বলেন, ধোপাজান খালটি উদ্ধারের আবেদনই কাল হলো আমার বাবা আব্দুর রাজ্জাকের জন্য। ২৬৭ নং দাগে অবস্থিত ধোপাজান খালটি জসিম পাঠান অবৈধ ভাবে দখল করার ফলে উজানের পানিসহ আমাদের মিলের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। একাধিকবার সরকারী ধোপাজান খালটি ও আমাদের কতক জমির অবৈধ দখল ছেড়ে দিতে বলায় জসিম পাঠানের সঙ্গে আমার বাবা আব্দুর রাজ্জাকের বিরোধের সৃষ্টি হয়। তৌফিক রাজ্জাক বলেন, কাঠালী মৌজার ২৬৭ নং দাগে অবস্থিত সরকারী ধোপাজান খালটি উদ্ধারের জন্য ২৪-১১-২০১৯ইং স্থানীয় বাসিন্দা মজিব হোসেন ও বিল্লাল হোসেন গংরা ভালুকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে খালটি চিহ্নিত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার ভালুকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ্য করেন সরকারি ধোপাজান খালটি অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এ ছাড়া জসিম পাঠান ময়মনসিংহের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে একটি সি.আর মোকদ্দমা দায়ের করেন, মোকদ্দমা নং ৯৩৩/২০১৯। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ প্রাপ্ত হয়ে ভালুকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করেন, ২৬৭ দাগে সরকারি ধোপাঝান খাল ও ২৬৮নং দাগের কিছু জমি দখলে থাকায় খালটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে ২৬৮নং দাগে প্রবাহিত হচ্ছে। গত বছরের ৩ অক্টোবর আব্দুর রাজ্জাক ধোপাজান খালটি উদ্ধারের জন্য ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদন করেন। সম্মেলনে তৌফিক রাজ্জাক বলেন, ঘটনার দিন ১৪ জুলাই মিলের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ফ্যাক্টরির দখলীয় সম্পত্তিতে পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ চলাকালিন সময় কৌশলে আব্দুর রাজ্জাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে জসিম পাঠান ও তার সহযোগীরা কুপিয়ে আব্দুর রাজ্জাককের দুটি পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তৌফিক রাজ্জাক দাবী করেন ওই ঘটনায় পরের দিন ১৫ জুলাই বিভিন্ন গণম্যাধমে প্রকাশিত হয়। সংবাদে কিছু কাল্পনিক, মিথ্যা ও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। যা একটি সত্য ঘটনাকে মিথ্যা দিয়ে আড়াল ও মূল ঘটনাকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখিত ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পর পুুলিশ ও র‌্যাব এর অভিযানে দ্রুততম সময়ে ৭ জন আসামি গ্রেফতর হওয়ায় পুলিশ ও র‌্যাব এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তৌফিক রাজ্জাক বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজিম উদ্দিন পাঠান ও মিজানুর রহমান পাঠান প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। এবং মামলার স্বাক্ষীদের বিভিন্ন ভয় ভিতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করছে। তারা মামলাটিকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ওই আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *