ভাসানচরে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় চূড়ান্ত চুক্তি এ মাসেই

জাতীয়

ডেস্ক রিপোর্ট : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্ত হবে জাতিসংঘ। যুক্ত হয়ে কীভাবে তারা কাজ করবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি খসড়া চুক্তি করেছে সংস্থাটি। খসড়া চুক্তিটি এ মাসেই চূড়ান্ত করবে জাতিসংঘ। আশা করা হচ্ছে, চুক্তি চূড়ান্ত হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ভাসানচরে মানবিক সহায়তায় কাজ শুরু করবে জাতিসংঘ।

সোমবার (২৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে খসড়া চুক্তি হয়ে গেছে। চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও শেষ করতে পারিনি। সম্ভবত বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। জাতিসংঘ চূড়ান্ত করতে পেরেছি কি না সেটা বলতে পারব না। সঠিক দিনক্ষণ বলা মুশকিল। তবে আশা করছি, চূড়ান্ত চুক্তি চলতি মাসের মধ্যেই হয়ে যাবে। চুক্তি হয়ে গেলে সেপ্টেম্বরের শুরুতে সম্ভব না হলেও আশা করছি, মাঝামাঝিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে জাতিসংঘ।’

গত ২৮ জুলাই ঢাকায় এক বৈঠকে জাতিসংঘ ভাসানচরে মানবিক সহায়তায় কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘসহ কিছু মানবাধিকার সংস্থার আপত্তি ছিল। সব আপত্তিকে পেছনে ফেলে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু করে সরকার। স্থানান্তরের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ভাসানচরে প্রথম দেখতে যায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি প্রতিনিধিদলকে। এরপর গত ১৭ মার্চ তিনদিনের সফরে ভাসানচরে যান জাতিসংঘের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ওই সফরে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার কাজে যুক্ত সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ভাসানচরে সেটিই জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের প্রথম সফর ছিল।

সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুর দিকে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের দেখতে যান ঢাকায় নিযুক্ত ১০ বিদেশি রাষ্ট্রদূত। ঢাকায় পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দুই সহকারী হাইকমিশনার ভাসানচর সফর করেন। এসব সফরের পর জাতিসংঘের কারিগরি দলসহ প্রতিনিধিদল ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়। অর্থাৎ ভাসানচরে মানবিক সহায়তায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সায় দেয় সংস্থাটি।

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে অধিকতর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচর প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে বছর দুয়েক আগেও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা সম্ভব ছিল না।

তবে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জাতিসংঘের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গাকে নিয়ে ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। এ পর্যন্ত ছয় দফায় ১৮ হাজার ৫২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *