ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ভেস্তে গেছে একশ একর আবাদি জমি

সারাবাংলা

নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর থেকে
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় যমুনা নদীর জল নেমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। তবে নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যার জল অপরিবর্তিত আছে। উপজেলার অধিকাংশ এলাকা এখনও বন্যার জলে তলিয়ে আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর জল ১৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার জলে তলিয়ে যমুনার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলে আমন ধান, সবজি ক্ষেত, বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পরেছে বন্যাকবলিত এসব কৃষক। জল কমতে শুরু করলেও ভোগান্তিতে রয়েছে এসব এলাকায় মানুষ। দীর্ঘদিন আমন ধান, বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল জলে তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে প্রায় ১শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার জলে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন স্বপ্নতেই রয়ে গেল। স্বপ্নের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পরেছে কৃষক।
অপরদিকে, দীর্ঘদিন বন্যার কারণে জলবন্দি মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চর্মরোগসহ জলবাহিত নানা রোগ বালাই। অনেকে এখনো বসতভিটা ছেড়ে পরিবার পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে রাস্তার পাশের উঁচু স্থানে রয়েছে। উপজেলার যমুনার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের জল কমলেও নিচু এলাকায় এখনো জলবন্দি রয়েছে শত শত পরিবার। ত্রাণ না পাওয়ায় অনেক মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১শ একর বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও আমন ধান জলে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অপরদিকে, দেখা দিয়েছে নতুন ধানের চারা ও বীজতলা সংকট। এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল জানান, যমুনার জল অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১শ হেক্টর জমির ফসল জলে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন এসব জমির ফসল জলের নিচে তলিয়ে থাকায় আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাদের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বন্যা পরবর্তী সময়ে প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করবে উপজেলা কৃষি অফিস।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *