ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নৌকার মাঝি হতে দৌঁড়ঝাঁপ

সারাবাংলা

নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর থেকে
আগামী ২ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার টিকেট পেতে ডজনখানেক নেতার দৌঁড়ঝাঁপ। ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বইতে শুরু করেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনী হাওয়া। দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। শুভেচ্ছা পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থীতা। যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্র ও জেলার নেতাদের সঙ্গে। উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন আঙ্গিকে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কে হতে যাচ্ছেন নৌকার মাঝি? নৌকার মাঝি হতে যারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের দুই দুইবারের ভিপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই দুইবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ভূঞাপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান (মেয়র) আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুত (এম.এ ডবল), সদ্য প্রয়াত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম এডভোকেটের সহধর্মিণী উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি ও লোকমান ফকির মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নার্গিস আক্তার, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ভিপি, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম তালুকদার মোহন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য ও ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক দুই দুইবারের কাউন্সিলর আজহারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন, নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জাহিদ শামস হুমায়ুনসহ প্রায় একডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদিকে, বিএনপি দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন না দিলেও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বাবলু গণসংযোগ শুরু করেছেন। যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন আলাউদ্দিন মিয়া তুলা। আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুত বলেন, আমি ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের দুই দুইবার ভিপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভূঞাপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান (মেয়র) ছিলাম। রাজনীতির পেছনেই আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। সবসময় জনগনের খেদমত করেছি। আমি পৌর চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারে রাজনীতি ছেড়ে দেবো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে, আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে বাকিটা জীবন জনগনের সেবা করে যাবো। মনোনয়ন প্রত্যাশী নার্গিস আক্তার বলেন, আমার স্বামী টানা দুইবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জনগণের পাশে থেকে তিনি সেবা করে গেছেন। আমি নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। আমি নৌকা প্রতীক পেয়ে নির্বাচিত হলে আমার স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো। সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই দলের জন্য শ্রম দিয়ে আসছি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে মাঠে থেকেছি। সকল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন জনগনের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেবে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বাবলু বলেন, আমি বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। যদি দল আমাকে মনোনয়ন না দেয় তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবো। এ বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন উত্তোলন ও দাখিলের শেষ তারিখ ৯ অক্টোবর, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ১১ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ১৭ অক্টোবর এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২ নভেম্বর। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম অ্যাডভোকেট করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩০ জুলাই মৃত্যুবরণ করায় চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *