ভেঙে গেল বিয়ে! স্বপ্ন থেকে গেল ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধার

Uncategorized

চাটমোহর প্রতিনিধি:
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ভদ্রা গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে উৎসবের আমেজ চলছিল। কারণ, এ গ্রামে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ৭০ বছরের রাহেলা খাতুনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ৮০ বছরের বৃদ্ধ মিজান আলীর সাথে। কিন্তু সেই আনন্দ আমেজ থেমে গেল বিয়েটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায়। বর পেশায় ভিক্ষুক ও তার নিজ বাড়ি নেই বলে শেষ মুহূর্তে এসে বিয়ে ভন্ডুল করে দেন কনে পক্ষের লোকজন। এতে অবশ্য এলাকাবাসী হতাশ হয়েছেন।

চাটমোহর উপজেলার ভদ্রা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুর রহমান জানান, ভদ্রা গ্রামে রাহেলা বেওয়া তার একমাত্র মেয়ে মমতা খাতুনের বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার বিকেলে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল মথুরাপুর গ্রামের মিজান আলীর সঙ্গে।

তিনি জানান, রাহেলা খাতুন বিধবা হন আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। তিনি তার একমাত্র মেয়ে মমতাকে বিয়ে দেন ভদ্রা গ্রামের আলী আজগরের সঙ্গে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর থেকে মেয়ে জামাই তাকে আশ্রয় দেন।

শফিকুর রহমান আরও জানান, জীবনের শেষ সময়ে তার একজন সঙ্গী করে দেয়া ও নিশ্চিন্তে দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য বয়সী একজন পাত্র ঠিক করা হয়। উপজেলার মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা মিজান আলীর সঙ্গে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়। ঘটক তথ্য গোপন করে বলেছিলেন ওই বৃদ্ধ বরের বাড়ি ও কিছু জমিজমা আছে। কিন্তু শুক্রবার সকালে খবর আসে ওই বৃদ্ধ অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থেকে ভিক্ষা করে জীবন চালান। এরপর বরকে ‘না’ করে দেয়া হয়।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মেম্বার নুরুন্নাহার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি রাহেলা খাতুনের প্রতিবেশী। রাহেলার জীবনের শেষ দিনগুলো যেন ভালো কাটে সেজন্য তাকে পাত্রস্থ করতে সবাই রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু বর নিজেই উদ্বাস্তু ও ভিক্ষুক জানার পর এ বিয়েতে রাহেলা ও তার স্বজনরা অমত প্রকাশ করেন।

নারী মেম্বার নুরুন্নাহার আরও জানান, রাহেলার মেয়ে-জামাইয়ের সাংসারিক অবস্থাও খুব ভালো না। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাহেলার জন্য সাধ্যমতো খাদ্রসামগ্রী দেন। তিনি জানান, মেয়ের বাড়িতে রাহেলা অন্তত নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারছেন। কিন্তু উদ্বাস্তু লোকের সঙ্গে বিয়ে দিলে আরও সমস্যা হতো। তাই রাহেলার স্বজন ও গ্রামের প্রধানরা মিলেই এ বিয়েটি বন্ধ করে দেন।
তিনি জানান, এ বয়সে দু’জনের বিয়ে হতে যাচ্ছে জেনে এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে একটা উৎসবের আমেজ চলছিল।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *