ভৈরবে চোলাই মদের জমজমাট ব্যবসা

Uncategorized

সোহানুর রহমান সোহান, ভৈরব থেকে:
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা চান্দালীর টিলা সংলগ্ন রবি দাস পল্লী ও হরিজন পল্লীতে তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ। আর এসব তৈরীকৃত চোলাই মদ সরবরাহ করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও থেমে নেই তাদের প্রতিদিনের লাখ লাখ টাকা এই ব্যবসা। আর এসব মাদকদ্রব্য হাতের নাগালে পেয়ে ধ্বংশ হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার রেললাইন সংলগ্ন চান্দালীর টিলা, রবিদাস পল্লী, হরিজন পল্লী এবং ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে ঝগড়ারচর, চকবাজার, নয়াহাটি পশ্চিমপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ। এর মধ্য ভৈরব উপজেলার চান্দালী টিলা সংলগ্ন রবিদাস পল্লী ও কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ঝগড়ারচর, চকবাজার, নয়াহাটি গ্রামে বেশি পরিমানে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, ভৈরব উপজেলার চান্দালীর টিলার পাশে এক মোদী দোকানদার জানান, ভৈরব উপজেলার চান্দালী টিলার পাশে রবিদাস পল্লী, হরিজন পল্লী এবং কালিকাপ্রসাদ, নয়াহাটি পশ্চিম পাড়া, চকবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় চোলাইমদ তৈরির ছোট ছোট ঘরে চুলা স্থাপন করে অবাধে চোলাই মদ তৈরি করছে। মদ তৈরির পর ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও ভৈরবের আশে পাশে রায়পুরা, বেলাব, আশুগঞ্জ উপজেলায় তাদের নিয়োজিত লোক দিয়ে অভিনব কায়দায় স্কুল ব্যাগে, অটোরিক্সার সীটের নিচে করে, বিভিন্ন কোল্ডড্রিংকের বোতলে এবং চটের বস্তায় ভরে ফজরের আযানের পরপর নৌকা দিয়ে তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তিনি আরও বলেন, এলাকার অনেক ব্যক্তি এসব অপকর্মের প্রতিবাদ জানালেও দীর্ঘ দিন ধরে তারা তাদের এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যে মধ্যে ভৈরব থানা পুলিশ ও ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্প-১৪, মদ তৈরির উপকরণ ভেঙে দিলেও দুই এক দিন পর আবারো কার্যক্রম শুরু করেন। ফলে কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ চোলাই মদ তৈরি। ইদানিং মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে কিছু দিন গা ঢাকা দেওয়ার পর এখন করোনা প্রাদুর্ভাবে পুরুদমে চলছে চোলাইমদ উৎপাদন। দৈনিক এক থেকে দেড় টন উৎপাদিত চোলাইমদ নিমিষেই চলে যায়।

জানা যায়, আরও প্রতিদিন সূর্য্য উদয়ের আগে দেশি মদ বিশেষ পলিথিন ব্যাগে ও চটের বস্তায় করে চলে যায় সড়ক ও নদী পথে। এই ব্যবসা করে চোলাই মদ ব্যবসায়ীরা গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। এদের মধ্যেও রবিদাস পল্লী মৃত মনার ছেলে দুলু, মৃত সুবলের ছেলে মিঠু, মৃত রামকৃষ্ণার ছেলে বাবুল, ফুলবাসী, জুনিয়া, জুনু, সন্দিপের মা লিলি, হাসু, সামুয়া, দিয়ারিয়া, ভাঙ্গুরা, জিঙ্গুরা, সাগর, রঞ্জিতের বৌ বেবী, বকুলী, পারুল, অনিল, জনি ও কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ঝগড়ারচর, সিদ্দিরচর চক বাজারের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে মন্নাফ মিয়ার নাম উঠে এসেছে সবার আগে। এছাড়া ভৈরব পাওয়ার হাউজের পাশে হরিজন পল্লীর বিল্লাল, জীবন, সুমন, রাজা, জনি এসব চোলাইমদ প্রতি দিন জমজমাট ভাবে বিক্রি করছে তারা। দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এই অবৈধ বাণিজ্য। ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিপথগামী হয়ে পড়ছে এলাকার যুব সমাজ। এ ব্যাপারে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিন মুঠোফোনে জানান, আমি এই থানায় যোগদান করার পর বেশ কয়েকবার চোলাইমদ তৈরির ভৈরব রবিদাস পল্লীর ও হরিজন পল্লীতে অভিযান চালিয়ে চোলাইমদের কারখানা ভেঙ্গে দিয়ে মদ তৈরীর সব উপকরণ নষ্ট করেছি। তারা পুলিশ আসার খরব পেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানা পুলিশ সব সময় সোচ্চার রয়েছে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *