ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী

সারাবাংলা

কক্সবাজার সংবাদদাতা:
বদলে যাচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দেশের অন্যতম প্রধান এ পর্যটন নগরী পরিণত হচ্ছে যানজট-আবর্জনার শহরে। এতে বাড়ছে পর্যটকদের দুর্ভোগ। কলাতলী চৌরাস্তা বা ডলফিন চত্বর। যানজট এ চত্ত্বরের নিত্যদিনের দৃশ্য। স্থানীয় ও পর্যটকরা যানজটের কারণে থাকেন চরম ভোগান্তিতে। ডলফিন চত্বরের একদিকে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল, বিপরীত দিকে কলাতলী সমুদ্র সৈকত, ডানে সুগন্ধা-লাবণী পয়েন্ট ও কক্সবাজার শহর। প্রতিটি সড়কেই প্রতিনিয়ত ছোট-বড় যানবাহনের ভিড় লেগে থাকে। যানজটের কারণে ডলফিন চত্বর হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার হটস্পট।
পর্যটন শহরের গেস্ট হাউস-রেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, ডলফিন চত্বরের চারপাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ কারণে সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, যা যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। পরিকল্পিত নগরায়ন ছাড়া এ সমস্যার সমাধান অসম্ভব।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফোরকান আহমেদ বলেন, শুধু ডলফিন চত্বর নয়, পুরো কক্সবাজার শহরে শত শত অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মহাসড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। তিনি আর বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের সুবিধার্থে শহরের কলাতলী থেকে হলিডে মোড় শহীদ সরণী হয়ে বাজারঘাটা এবং বাহারছড়া, টেকপাড়া, পিটিআই, তারাবনিয়া ছড়া, আলীর জাহাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থানে উচ্ছেদ আভিযান চলমান। এছাড়া দেশের অন্যতম প্রধান এই পর্যটন নগরীতে যানজট-দুর্ঘটনা ও পর্যটকদের দুর্ভোগ লাঘবে দূরপাল্লার যানবাহন, অবৈধ অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অচিরেই কক্সবাজার নগরীতে দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে পর্যটকরা স্বস্তি ফিরে পাবেন।
কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার শহরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। পৌরসভা ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। ডলফিন চত্বর, হলিডে মোড়, বাজারঘাটা, পিটিআই ও বাস টার্মিনাল এলাকার যানজট ও দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। কক্সবাজারকে তিলোত্তমা নগরীতে রূপান্তরিত করতে কাজ চলছে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার আবারো পর্যটক বান্ধব নগরীতে পরিণত হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *