ভয়ংকর কিশোর গ্যাং

Uncategorized

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিবপুর কান্দাপাড়া এলাকার কিশোর গ্যাং এর কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। সম্প্রতি এ গ্রামে একটি কিশোর গ্যাং এর চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই কিশোর গ্যাং এর মূল হোতা শিবপুর কান্দাপিড়া গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের এর বখাটে ছেলে রুদ্র ইসলাম (২২),। তার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন ছেলের একটি কিশোর গ্যাং এলাকার দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজী, ছিনতাই এবং দেহ ব্যবসাসহ নানা প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা প্রতি রাতে অভিনব কায়দায় শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ রোডে যাতায়াতকারী মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই করে থাকে। তাছাড়া কিশোর গ্যাং এর মূল হোতা রুদ্র ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনের বেলায় শিবপুর ইউনিয়ন ভবনের পেছনে জমজমাট জুয়া খেলা পরিচালিত হয়ে আসছে। এমন কি প্রতি রাতে স্থানীয় হাজী ফার্মের পেছনে অবস্থিত কলা বাগানে এই জুয়ার আসর বসে।

উল্লেখ্য, গ্যাং লিডার রুদ্র ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে কিছু দিন আগে স্থানীয় হাসিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছে থাকা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে জোর করে চার লাখ টাকা একটি চেক ইসলামী ব্যাংক ভৈরব বাজার শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং- ২৫৬ এ স্বাক্ষর করে নিয়ে যায়। যার যথাযথ প্রমাণ রয়েছে।

এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র নিরীহ মানুষের জমি জোর পূর্বক দখল করে অন্যত্র বিক্রি করে দেয় এই কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা রুদ্র ও তার সহযোগীরা। এছাড়া জমি বেচাকেনা হলেও দুই পক্ষের কাছে থেকেই চাঁদা দাবি করে থাকে রুদ্র বাহিনী।

রুদ্র তার আধিপত্য বিস্তার করতে ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া কসাই হাটির এলাকা থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে এসে দাপটের সহিত এসব অপকর্ম করে আসছে। অন্যদিকে গ্যাংয়ের মূল হোতা রুদ্র ইসামের স্ত্রী শোভা বেগম তার নিজ ডুপ্লেক্স বাড়িতে পার্লার ব্যবসার অন্তরালে টাকার বিনিময়ে যুবতী মেয়েদের নিয়মিত ভৈরবের প্রভাবশালী লোকজনের কাছে পাঠিয়ে দেহ ব্যবসা মাধ্যমে অর্থ আদায় করে থাকেন। শোভা বেগম দেহ ব্যবসা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যুবতী মেয়েদের দিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই শোভা বেগম আদালতে বিচারাধীন ভৈরব হাজী আসমত কলেজের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এই সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা রুদ্রের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান এলাকার সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ওই বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *