মণিরামপুরে বোরো ধানে গিট ব্লাস্টের আক্রমণ : স্বপ্ন ভাঙলো কৃষকের

সারাবাংলা

তাজাম্মূল হুসাইন, মণিরামপুর থেকে:
এবারও যশোর জেলার মণিরামপুরে গিট ব্লাস্টের আক্রমণে স্বপ্ন ভেঙেছে বোরো চাষিদের। ধান পাকার আগ মুহূর্তে ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন ব্রি-২৮ ও মিনিকেট জাতের ধান চাষিরা। ধানে গোলা ভরার স্বপ্ন ফিঁকে হতে যাচ্ছে অনেকের। নানা প্রকার বিষ প্রয়োগ করেও প্রতিকার মিলছে না কৃষক দরে। উপায়ন্তর না পেয়ে কাঁচা ধান কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সরেজমিন উপজেলার দেবীদাসপুর, রোহিতা, শেখপাড়া, রঘুনাথপুর, মাঝিয়ালী, খানপুর মাঠ ঘুরে কয়েকটি ক্ষেত ব্লাস্টে নষ্ট হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কাশিমনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটিসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বিচ্ছিন্নভাবে ব্লাস্টের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ছিলুমপুর গ্রামের বোরো চাষি তৈমুর হোসেন বলেন, একবিঘা জমিতে ব্রি-৬৩ চাষ করেছি। ধান পাক শুরু করেছে। ৮-১০ দিন আগ থেকে ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে। বিষ প্রয়োগ করেও প্রতিকার হয়নি। ব্রি-৬৩ জাতের ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২৫ মণ ধরা যায়। আমার জমিতে এবার পাঁচ মণ হবে কিনা আশংকা করছি। একই কথা জানান, রোহিতা শেখপাড়া গ্রামের চাষি আজগার আলী। আজগার আলী ক্ষোভ করে বলেন, কোনো সময় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে পাশে পাই না। ধানের খারাপ অবস্থা দেখে কীটনাশকের দোকানে দৌড় মারি। দোকানদারের বুদ্ধিমতো বিষ দিই। কাজ হয় না। দেবীদাসপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি মোজাফফার হোসেন বলেন, ১৫ শতক জমি লীজ নিয়ে মিনিকেট ধান করিছি। পাকার মুহূর্তে শীষের গিটের নিচ থেকে পোকা কেটে দিচ্ছে। স্প্রে করিছি, কাজ হয়নি। জলকর রোহিতা গ্রামের রাহাতউল্লাহ নামে এক চাষির দুই বিঘা জমির ধান ব্লাস্ট ধ্বংস করে দিয়েছে। উপায় না পেয়ে তিনি আগাম ধান কেটে নিয়েছেন। এ ছাড়া শেখপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের একবিঘা, মনিরুল ইসলামের একবিঘা, সাহেব আলীর দশ কাঠা, হায়দার আলীর দশ কাঠা, আমিনুর হোসেনের দশ কাঠা, খোকনের দশ কাঠা ও মাহমুদকাটি গ্রামের মুজিবর হোসেনের ১৫ কাঠা জমির বোরো ধান ব্লাস্টের আক্রমণে শেষ হয়ে গেছে। তাছাড়া সম্প্রতি মণিরামপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো ধানের শীষ নষ্ট হয়েছে এমন কথাও রয়েছে কৃষকদের। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, মণিরামপুরে এবার ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তার মধ্যে গরম হাওয়ায় আট হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এবার ধানের বাম্পার ফলনেরও আশা করা হচ্ছে। রোহিতা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা তুহিন বিশ্বাস বলেন, এবার আমার এলাকায় ব্লাস্ট নেই। আমি সবসময় মাঠে থাকি, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিই। কোনো কৃষক ফসলের সমস্যা নিয়ে যদি না জানায় তাহলে সে দোষতো আমার না! মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, কিছু কিছু ক্ষেতে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এখন ফসলের শেষ সময়, তেমন কিছু করারও নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামীতে যেন চাষি ফসল ও ফসলের রোগ নিয়ে ক্ষতির শিকার না হন সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঝড়ো হাওয়ায় বিচ্ছিভাবে আট হেক্টর জমির ধানের শীষ শুকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *