মণিরামপুরে ভূমিহীন ২৬২ পরিবার পেল নতুন বাড়ি

সারাবাংলা

তাজাম্মূল হুসাইন, মণিরামপুর থেকে:
ট্রাক শ্রমিক আসাদ সরদার (৬৫) স্ত্রী রাহিমা বেগম ও তিন সন্তান নিয়ে জীবনের বেশিরভাগ সময় বসবাস করেছেন অন্যের বাড়িতে। ট্রাকের হেলপারি করে যে রোজগার তা দিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে তার মাথার উপর একটি ছাউনি পেয়ে বেজায় খুশি তিনি। সম্প্রতি সরকারের দেওয়া একটি বাড়ি পেয়েছেন হাকোবা গ্রামে। পরিজন নিয়ে এখন বসবাস করছেন সে বাড়িতে। বাড়ি পেয়ে আসাদ সরদার জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার-এ ঋণ আমি কখনই শোধ করতে পারবো না। কখন ভাবতেও পারিনি আমি এমন একটি বাড়ির মালিক হবো। সেলিমপুর গ্রামের বৃদ্ধা শাহিদা বেগম ভিক্ষা করেই দিন চলে তার। বিধবা মেয়ে বিউটি ও তাদের এক শিশু ছেলেকে নিয়ে জীবন চলতো ভিক্ষা করে। নিজের বলতে কিছুই নেই তার। এ বৃদ্ধা শাহিদা বেগম একটি সরকারের দেওয়া বাড়ি পেয়েছেন মাছনা-বেগমপুর গ্রামে। ১৫ই রমজানে নতুন বাড়িতে উঠেছেন বৃদ্ধা শাহিদা বেগম। বাড়ি পেয়ে তিনি বেজায় খুশি। কখরও নিজ বাড়িতে একটু ঘুমাতে পারবেন কল্পনাও ছিলোনা তার। বাড়ি পেয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গাংড়া গ্রামের হযরত আলী (৮৫), জয়পুর গ্রামের বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম (৬৫) এবং মনিরুল ইসলাম বাবু। কেবল ট্রাক শ্রমিক আসাদ কিংবা বৃদ্ধা শাহিদা নন। মণিরামপুরের ভূমিহীন এবং গৃহহীন এমনই ২’শ ৬২ পরিবারকে সরকারের দেওয়া নতুন ঘর উপহার পেয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ বায়োজিদ জানিয়েছেন, ভূমি এবং গৃহহীন ২৬২ পরিবারকে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ২শ টাকা ব্যায়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে এগুলোকে গত জানুয়ারী থেকে ঘর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে এগুলো সম্পন্ন করে একটি পরিবারকে একটি করে বাড়ি বুঝে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩০টি বাড়ি নির্মাণে অর্থ পেয়ে সেগুলোও বাস্তবায়ন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, বাড়িগুলো বেশিরভাগ নির্মাণ করা হয়েছে- উপজেলার হাজেরাইল গ্রামে ৬৪টি, মাছনা-বেগমপুর গ্রামে ৬৩টি, শিরালী মদনপুর গ্রামে ৪৬টি, মধুপুর গ্রামে ৩৭টি পৌরসভাধীন হাকোবা গ্রামে ৩৭টি, কালারহাট ৫টি, চাকলা গ্রামে ২৮টি ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নির্মাধীণ এ বাড়ির সংখ্যা ২৬২টি। এসব বাড়ি নির্মাণ করতে জমি ছাড়াও বাড়িতে ব্যায় নির্বাহ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রতিটি বাড়ির বসতঘরের সঙ্গে সংযুক্ত টয়লেট এবং রান্নাঘর পেয়েছেন সুবিধাভোগীরা। ভূমি এবং গৃহহীন পরিবারগুলো চাকচিক্য এসব বাড়িগুলো পেয়ে আনন্দের কমতি নেই তাদের মধ্যে। সুবিধাভোগী এ পরিবারগুলো সরকারের প্রতি চরম কৃতজ্ঞ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান জানান, সরকার ভূমি এবং গৃহহীনদের প্রতি নজর রেখেছেন এবং তাদের প্রতিটি পরিবারকে বাড়িঘর দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তার অংশ এটি। যা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। এ সরকার নির্বাচনের আগে বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ এবং ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি দেওয়ার নির্বাচনী যে এস্তেহার ছিলো, মাননীয় প্রধানন্ত্রী সেইটা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোন ব্যক্তি গৃহহীন থাকবে না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *