মধু সংগ্রহে ব্যস্ত

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে : যত দূর চোখ যায় কেবলই হলুদের হাতছানী। এ যেন প্রকৃতির নরম গালিচা। সঙ্গে মৌমাছির মধুর গুঞ্জন। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে ভরপুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত। তাড়াইল, করিমগঞ্জ, ইটনা, ভৈরব উপজেলার গ্রামে গ্রামে সরিষার মৌসুমে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মধু সংগ্রহ করতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন মৌ চাষিরা। এ বছর জেলায় ৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিনে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ হাজার হেক্টর জমির সরিষা চাষে মধু সংগ্রহের বাক্স বসানো হয়েছে। সরিষা চাষ মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনবার মধু সংগ্রহ করা হয়। এতে করে এ বছর জেলায় ১০/১১ টন মধু সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব এপি কালচার এর পরিচালক জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ খুবই লাভজনক। এতে কৃষক ও মৌ চাষী উভয়েই লাভবান হন। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে পাশাপাশি মৌমাছিরা পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার অধিক ফলন পান কৃষক, আর মৌ চাষিরা পান মধু।

মৌ চাষিরা সাধারণত পছন্দের একটি সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় চাক ভরা বাক্স স্থাপন করেন। একেকটি বাক্সে ৮-১০টি মোম দিয়ে তৈরি মৌচাকের ফ্রেম রাখা হয়। প্রতিটি মৌ বাক্সের ভেতরে রাখা হয় রাণী মৌমাছি। ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু এনে বাক্সের ভেতরের চাকে জমা করে। রাণী মৌমাছির কারণে ওই বাক্সে মৌমাছিরা আসতে থাকে। চাকের বাক্সের মাঝখানের নিচে ছিদ্র করে রাখা হয়। সে পথ দিয়ে মৌমাছিরা আসা-যাওয়া করতে থাকে।

মৌ চাষিরা জানান, বাক্সের ভেতরের চাকগুলো মধুতে পরিপূর্ণ হতে সময় লাগে ছয় থেকে সাত দিন। এরপর মধু চাষিরা বাক্স খুলে চাকের ফ্রেম থেকে মেশিনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করেন।

এদিকে, সরিষা চাষিরা বলছেন, সরিষা ক্ষেতগুলো সাধারণত দেড় মাসের মতো ফুলে ফুলে ভরে থাকে। যতদিন ফুল থাকে, ততদিনই চলে মধু সংগ্রহ।

চলতি রবি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩ উপজেলাতেই সরিষার আবাদ হয়েছে। জেলায় মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর। উপজেলাওয়ারি জমির পরিমান কিশোরগঞ্জ সদরে ৫০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১২০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১৩০ হেক্টর, কটিয়াদীতে ৫৩০ হেক্টর, করিমগঞ্জে ১৩৬৫ হেক্টর, তাড়াইলে ৬৫৫ হেক্টর, মিঠামইনে ৮৫ হেক্টর, নিকলীতে ৫৭৫ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৫৫ হেক্টর, ইটনাতে ৪১০ হেক্টর, বাজিতপুরে ৯৯০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৩৭১ হেক্টর ও ভৈরবে ২২২০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৭১০ টন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *