মল্লযুদ্ধ বন্ধ হবে কবে

সারাবাংলা

ইসমাইল খন্দকার, সিরাজদিখান থেকে:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচরে টেঁটা, বল্লম, জুইত্যা, ছুরকি আর রামদার মতো ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মল্লযুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘ ৪৭ বছরের। আদিম যুগের কায়দায় একদা সেখানে চর দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্রসন্ত্র নিয়ে যুদ্ধ হতো। তেমনি বর্তমান সময়ে এসেও রাজধানী ঢাকার সীমানা ঘেঁষা বালুচরে জমি দখল, মাটি ভরাট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে চলছে সেই আদিমযুগীয় কায়দায় মল্লযুদ্ধ। স্বাধীনতার পর ৪৯ বছরে বালুচরে কতোবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে-তা সঠিক করে কেউ বলতে পারছে না। তবে স্বাধীনতার পর টেঁটা যুদ্ধের ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ১০ জনেরও বেশি মানুষ। বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, দখল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য। সিরাজদিখান থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছরে টেঁটা যুদ্ধে মারা গেছে ৩ জন, টেঁটা জব্দ করা হয়েছে ৮ হাজারেরও বেশি এবং মামলা হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে বালুচর একটি বৃহৎ ইউনিয়ন। ২১টি গ্রাম নিয়ে বালুচর ইউনিয়নের লোক সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। প্রতিটি গ্রামেই গড়ে উঠেছে বল্লম-টেঁটা বাহিনী। ইউনিয়নের সঙ্গে টেঁটাযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে প্রস্তুতির কমতি নেই ঢাকার দক্ষিণ কেরানীঞ্জের জাজিরা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর এবং লতব্দী ইউনিয়নের ভাষানচর, দোষরপাড়া গ্রামের লোকজন। ওই সব গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই চর দখল নিয়ে শুরু হয়েছিল টেঁটা যুদ্ধ। ইউনিয়নটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং নারায়নগঞ্জর ফতুল্লা থানা সীমানা ঘেঁষা। এখানে গড়ে উঠেছে নামে বেনামে অর্ধশতাধিক হাউজিং কোম্পানী। বর্তমানে জমি দখল, হাউজিংয়ের মাটি ভরাট এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে টেঁটা যুদ্ধ। এ সব বিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য বহুবার বৈঠক ও আলোচনায় বসেও এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সুরাহা দিতে পারেননি। বালুচর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি আলেক চান মুন্সী বলেন, টেঁটা-বল্লমের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০ জনেরও বেশী মানুষ মারা গেছে। আমার বংশের প্রায় ২৮টি বশতঘরে আগুনে পুড়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। আমরা আর টেঁটা যুদ্ধ চাই না, একটা সমাধান চাই। এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার ওসি এসএম জালালউদ্দিন জানান, আমি সিরাজদিখান থানায় যোগদান করেছি প্রায় দুই মাস। এই দুই মাসে যতটুকু জেনেছি এখানে মূলত বংশগত এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১৯৭২ সাল থেকে চলছে সংঘর্ষ। বর্তমানে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন হাউজিংয়ের জমি দখল, কেনা-বেচা এবং জমি ভরাট। শীঘ্রই স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বালুচরের বিরোধ মিটানোর চেষ্টা করবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *