মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ

সারাবাংলা

ছবি : শামীমা আক্তার শিল্পী

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে:
গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক শামীমা আক্তার শিল্পী উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন মাস্টোরের মেয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্কুলটি ১৯৭২ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়। পরে ২০০৬ সালে স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার বাবার মাধ্যমে স্কুলে যোগদান করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি বনে যান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সেই থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন তিনি। মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিউলি আক্তার বলেন, স্কুলে কাঠের কোনো দরজা তৈরি হয়নি। আসলে উপর মহলের লোকজন বিস্তারিত বলতে পারবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, স্কুলে কোনো উন্নয়ন নেই। জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্ধকৃত এক লাখ টাকা দিয়ে কি কোনো উন্নয়ন হয়েছে? নাকি পকেটে গেছে উনার? এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার প্রথমে এসব অনিয়ম বিষয়ে কথা বলতে নারাজ হলেও কথা বলার এক পর্যায়ে বলেন আসলে ড্রেস, দরজা সহ যাবতীয় বিষয়ে কাজের রসিদ রয়েছে। জেলা অফিসের তদন্তের বিষয়ে তিনি স্বীকার করে বলেন, করোনার জন্য কাজ করতে দেরি হওয়ায় তাদের (জেলা শিক্ষা অফিস) কাছে নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারিনি।
বিদ্যালয়ের জন্য কাঠের কোনো নতুন দরজা তৈরি করা হয়নি। সুসজ্জিত করা হয়নি শ্রেণিকক্ষও। স্কাউট ড্রেস কিংবা খুদে ডাক্তার ড্রেসের অস্তিত্বও নেই। অথচ এসব জিনিসপত্রের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুরের মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় মেরামত কিংবা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া টাকায় কোনো কাজ না করে সব টাকা তিনি একাই আত্মসাৎ করেন- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিলেন এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে মাঠে নামে শিক্ষা অফিস। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ হাজার ২০০ টাকা ভাউচারে ১০ সেট স্কাউট ড্রেস ও ৬ সেট খুদে ডাক্তার ড্রেস উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এগুলো বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। একটি কাঠের দরজা বাবদ ১২ হাজার টাকা ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, অথচ নতুন কোনো কাঠের দরজাই তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিত করার জন্য ১০ হাজার টাকা খরচ করলেও ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। স্কুলে কোনো বৈদ্যুতিক পাখা নেই। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে আরও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক টাকারও কাজ না করে টাকা তোলার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে অভিযোগ। শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, স্কুল পরিদর্শন করে নতুন কোনো কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তিনি কাজ করেছেন। কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। কাঠের দরজার পরিবর্তে স্টিলের দরজা তৈরি করেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *