মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা

জাতীয় লিড ১ লিড 2

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। পাশাপাশি মেয়াদও বাড়ছে সাড়ে ৩ বছর। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে এই সংশোধনী প্রস্তাব। এছাড়াও চুক্তি স্বাক্ষর এবং অর্থ ব্যয়ের নিয়ম মানা হয়নি ‘মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতি ছাড়াই অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়ে ইপিসি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। কিছু অংশে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ও করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিলের ৪ হাজার ৯২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, জাপান আন্তর্জাতিক সহযাগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এখন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যা আগের ব্যয়ের তুলনায় ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। সেই সঙ্গে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের জুলাই হতে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু গত জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি আরও কম ৪৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ অবস্থায় সাড়ে তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ বলেন, বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। এ প্রকল্পের বিষয়ে আমি খোঁজখবর নেব। কোনো অন্যায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসব দেখভালের দায়িত্ব সাধারণত পিইসি সভার। সেখানে বিস্তারিত আলাপ আলোচনার পরই আমার কাছে আসে ফিনিসড প্রডাক্ট হিসেবে। তারপরও আমার দেখার সুযোগ রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ছয়টি কারণ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এগুলো হলো- চ্যানেল, জেটি ভূমি উন্নয়ন এবং পাওয়ার প্লান্ট সিভিল কাজের ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া পাওয়ার প্লান্টের (টারবাইন, বয়লার, কয়লা ইত্যাদি) ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে। পরামর্শক সেবার পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধি, ভ্যাট-আইটি ও আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন অঙ্গে ব্যয় বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুৎ ও টাউনশিপ নির্মাণেও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত হয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলে আইএমইডির প্রতিনিধি। এগুলো হলো, মূল ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুযায়ী পণ্য ক্রয় প্যাকেজের আওতায় প্লান্ট ও জেটি নির্মাণে চুক্তির মূল্য ছিল ২৪ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে এই প্যাকেজের ব্যয় প্রক্কলন করা হয়েছে ৩৮ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৩ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা বেশি, যা মূল প্যাকেজের ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। মূল ঠিকাদারের সঙ্গে ভেরিয়েশন অর্ডারে এই চুক্তি করা হয়েছে। এভাবে এত বড় চুক্তি করা যায় কি না এবং এক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক ক্ষমতা আছে কি না এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত জানা প্রয়োজন। এছাড়া অতিরিক্ত এ কাজ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এটি আর্থিক শৃঙ্খলার ব্যত্যয়।
তবে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিপিজিসিবিএল বলছে, এই প্যাকেজের বিষয়ে প্রকল্প অনুমোদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিটেইল ডিজাইন তৈরি করে। সে অনুযায়ী বিড ডকুমেন্টস তৈরি করে ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিমেন্ট কন্ট্রাকটর) ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। তবে ইপিসি ঠিকাদারকে কোনো ভেরিয়েশন অর্ডার প্রদান করা হয়নি। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে গুলশানে হলিআর্টিজান ট্রাজেডির কারণে প্রকল্পে ইপিসি ঠিকাদার নিয়োগ দেরি হয়। ফলে ইপিসি ঠিকাদারের বিড মূল্যায়নের পর ওই ঠিকাদারের প্রস্তাবিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইপিসি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এক্ষেত্রে সিপিজিসিবিএল বোর্ডের অনুমোদন এবং জাইকার সম্মতি রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *