মামলা থেকে বাঁচতে টাকা পাওনা নাটকের অভিযোগ

সারাবাংলা

রাজীব রাহুল, চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে কিডন্যাপ মামলা থেকে রেহাই পেতে টাকা পাওনার নাটক সাজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী রানার বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পুলিশ কর্মকর্তা ও আদালতের মাধ্যমে পাওনা বুঝে নেওয়ার পরও লোভের তাড়নায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কুমানসে প্রকাশ্য দিবালোকে সিএন্ডএফ ব্যবসা সাইফুল ইসলামকে অপহরণ করার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহীনির কঠোর প্রচেষ্টায় ভিকটিমকে ছেড়ে দিলেও সেই মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে ভিকটিমের কাছে টাকা পাবে বলে রিউমার ছড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এই নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে পক্ষপাতমুলক সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভিকটিম সি এন্ড এফ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম।
সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ ছৌধুরী রানা আমার সঙ্গে কমিশন ভিত্তিতে কাজ করতেন, কিন্তু কাজের লাভের চাইতে সে কমিশন দাবি করতো বেশি এর ফলে আমার ব্যবসায় লাভের পরিবর্তে লোকসান দেখা দেয়। যার কারণে আমি তার সাথে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিন্ন করি। সে আমার কাছে টাকা পাবে বলে আদালতে ২টি মামলা করে সেই মামলার সূত্রে ডবলমুরিং থানার ওসির মধস্থতায় আমি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ কোটি টাকা পরিশোধ করার পর সে মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য মহানগর দায়রা আদালতে চলতি বছরের গত ১৪ জানুয়ারী পিটিশন দাখিল করে। এরপর থেকে তার সাথে আমার আর কোন ব্যবসা বা কমিশনের কাজ করা হয়নি। কিন্তু সে টাকার নেশায় অস্থির হয়ে ক্ষমতার দাপটে অন্যায়ভাবে আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে চাইছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে চট্টগ্রাম নগরীর ঈদগাঁও বৌ বাজার এলাকা থেকে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে আমাকে অপহরণ করেন। পরে একটি বাসায় নিয়ে অমানুসিক নির্যাতন করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় গভীর রাতে আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এই ঘটনায় পরদিন শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিপটন ম্যাজিস্ট্রট, ২য় আদালত আবু সালেস মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ভিকটিম সাইফুল ইসলাম। এর আগের দিন সাইফুলের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বাদী হয়ে একই দিনে হালিশহর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। পরে গভীর রাতে এটি মামলা হিসেবে গন্য করেন অফিসার ইনচার্জ এবং সাথে সাথে নেমে পড়েন একশানে এর ফলে রাত আড়াইটার দিকে নগরীর জিইসি মোরে ভিকটিমকে ছেড়ে যায় অপহরনকারীরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *