মির্জাগঞ্জে ডায়রিয়ার মৃত্যু ১৩ ॥ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩

সারাবাংলা

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্কুল শীক্ষার্থীসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে । পারিবারিক সূত্র জানায় এদের কেউই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন না।গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় আক্রান্ত ৯৩ জন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত গত তিনদিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সমাদ্দার কাঠী গ্রামের রাকিব খন্দকারের মেয়ে সাহারা সানফুল (১৫), উত্তর মাধবখালী গ্রামের মৃত মহব্বত আলী হাওলাদারের ছেলে মন্নাফ হাওলাদার (৫০), মাধবখালী গ্রামের মৃত্যু বন্দে আলী সিকদারের ছেলে মো. নুর মোহম্মদ সিকদার (৮০), উত্তর মাধবখালী গ্রামের দেনছে আলী সিকদারের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৫৫), মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ফরমান সিকদারের ছেলে আলিম উদ্দিন সিকদার (৭৫), গণি হাওলাদারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭০), মৃত করিম নেগাবানের মেয়ে ফরিদা বেগম (৫০), ভাজনা কদমতলা গ্রামের আজাহার হাওলাদারের ছেলে সোবাহান হাওলাদার (৫৫), পিপড়াখালী গ্রামের মৃত ইউনুস হাওলাদারের স্ত্রী কদবানু বেগম (৭০),মির্জাগঞ্জ গ্রামের এলেম গোলদারের ছেলে আলম গোলদার(৪৩), ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের মৃত রাখাল চন্দ্র মালীর ছেলে বীরেন মালী (৫৫),আমড়াগাছীয়া ইউনিয়নের মহিষকাটা গ্রামের মোঃ সিরাজ হাওলাদারের ছেলে মোঃ সুলতান(৫৫) মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামের মৃত একরাম সিকদারের ছেলে আলেক সিকদার (৫০) জনের।
মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্স সূত্রে জানা যায়, সোমবার পর্যন্ত ৩৫৯ জন ডায়রিয়া রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৮ জন। ভর্তি আছেন ২৬১ জন। গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই ৯০-১০০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। এই মুহূর্তে হাসপাতালে কলেরা ও খাবার স্যালাইনেরে রয়েছে সঙ্কট ।এ সুযোগে কিছু ব্যাসায়ীরা রোগীদের কাছে অতিরিক্ত দামে স্যালাইন বিক্রয় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অনেকে হাসপাতালে না এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে বসে। উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে ৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, ঋতু পরিবর্তন ও দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে কয়েকদিন ধরে এ এলাকার মানুষ ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এখানে স্যালাইন সঙ্কট দেখা দেওয়ায় তা সমাধানে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *