মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সেবা তলানিতে

সারাবাংলা

রনি খান, মির্জাগঞ্জ থেকে
পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, দেড়যুগ ধরে অচল এক্স-রে যন্ত্র। বন্ধ রয়েছে ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রামসহ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। জরুরি সেবা না পেয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে আসা দুই শতাধিক রোগী ফিরে যান। বাধ্য হয়েই ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অধিক টাকা খরচ করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন। নেই সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা, সমস্যা ও সংকটে জর্জরিত। এমনই চিত্র দুই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা স্থাল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আগের জনবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম। এমবিবিএস চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৬ জন। এর মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে ইনডোর ও আউটডোরের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। ইনডোরের রোগী ছাড়াও প্রতিদিন ১০০-২০০ রোগীকে আউটডোরে চিকিৎসা দিতে হয়। এ ছাড়া জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), ডেন্টাল সার্জন একজন, সিনিয়র স্টাফ নার্স একজন, একজন সহকারী নার্স, দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব), মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওগ্রাফার), একজন জুনিয়র মেকানিক, ওয়ার্ড বয় একজন, নিরাপত্তা প্রহরী একজন, বাবুর্চি একজন ও ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে ২ জনের পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) এর পদ শূন্য থাকায় ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রামসহ কোনো প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে প্রসূতি, হার্ট ও পেটের সমস্যায় আক্রান্তরা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। ডেন্টাল চিকিৎসক না থাকায় ডেন্টাল চেয়ারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলেছে। এতে সেবা পাচ্ছেন না দাঁতের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীরা। গাইনী বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেসথেসিয়ার অভাবে অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) যন্ত্রপাতি থাকলেও এক যুগ ধরে সেখানে কোনো অপারেশন হয় না। ফলে হাসপাতালে আগত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রসূতিদের বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল অথবা ক্লিনিকে পাঠান সংশ্লিষ্টরা। এতে রোগীর স্বজনদের অধিক টাকা খরচ হয়। থিয়েটারটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সরকারের কোটি টাকা মূল্যমানের যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে বসেছে। এ ছাড়া উপজেলার মহিষকাটা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতলে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না। ক্লিনিকে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে সহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করি। ঠিকমতো ডাক্তারও পাওয়া যায় না। গুরুতর রোগী হলে বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল যেতে হয়।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান সমস্যা হচ্ছে জনবল সংকট। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এক্স-রে যন্ত্র অচল হয়ে যাওয়ায় নতুন এর চাহিদা পাঠিয়েছি এবং নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ডিউ লেটার পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *