মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহে ব্যস্ত

সারাবাংলা

মুন্সিগঞ্জ সংবাদদাতা:
১৩৬ বর্গ-কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেশের প্রাচীন এক বিলের নাম আড়িয়াল বিল। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই মিলবে গাদিঘাট গ্রাম। আর গাদিঘাট গ্রাম থেকেই শুরু হয়েছে আড়িয়াল বিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে এক অপূর্ব লীলাভূমি এ আড়িয়াল বিলে জন্মে বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়া।
এ বিলের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন কেবল মিষ্টি কুমড়া আর মিষ্টি কুমড়া। একেকটি মিষ্টি কুমড়ার ওজন ২ মণেরও বেশি হয়ে থাকে। এই মিষ্টি কুমড়া দেশ জুড়েই জনপ্রিয়। আড়িয়াল বিলের চারপাশেই এখন মিষ্টি কুমড়ার পসরা বসেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যেতে বিলের সর্বত্রই যেন মিষ্টি কুমড়ার এই পসরা বসে।
বিলের বিস্তীর্ণ জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহে এখন বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সেখানকার চাষিরা। আর এই মিষ্টি কুমড়া যেন প্রকৃতির আরেক দান। টকটকে মিষ্টি কুমড়া বিলের জমি থেকে সংগ্রহ করে সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে এখন। ভ্রমণ পিপাসুদের অনেকেই আড়িয়াল বিলের সৌন্দয্য উপভোগ করতে এসে সঙ্গে করে নিচ্ছেন বিশাল আকৃতির এই মিষ্টি কুমড়া।
এদিকে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আড়িয়াল বিলের মিষ্টি কুমড়া প্রকৃতিরই আরেক দান। দেশে ব্যাপক নাম ডাক অর্জন করেছে আড়িয়াল বিলের বিশাল আকৃতির এই মিষ্টি কুমড়া। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার শুধু মাত্র গাদিঘাট অংশের আড়িয়াল বিলে ২৭০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়েছে।
আশ্বিন মাসে এই মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ শুরু। ফাল্গুন মাসেই বিক্রি শুরু হয়ে যায় বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়া। এই বিলের প্রতি হেক্টর জমিতে ৪২ টন মিষ্টি কুমড়া আবাদ হয়ে থাকে। গত বছর বিলে ১১ হাজার ২৪০ টন মিষ্টি কুমড়া আবাদ হয়েছিল।
আড়িয়াল বিলের চাষিরা জানান, বিলের চারদিকে সবুজে ঘেরা আঁকাবাঁকা কাঁচা সড়কের দু’পাশে এখন স্তুপ আকারে সজ্জিত করে রাখা হয়েছে এসব কুমড়া। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্যবাহী গাড়ি এখানে এসে এই মিষ্টি কুমড়া নিয়ে যায় বাজারে বিক্রি করার জন্য। আড়িয়াল বিলের মিষ্টি কুমড়া বিক্রির জন্য রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, সাভার, সদরঘাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা।
আড়িয়াল বিলের চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বর্ষায় পুরো আড়িয়াল বিল পানির নিচে ডুবে থাকে। বর্ষার পানির সঙ্গে বিলের জমিতে প্রচুর পলি পড়ে। এতে বিলের জমি বেশ উর্বর হয়ে উঠে। বিলের সেই উর্বর জমির মধ্যে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয় থাকে। সেই সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া ও অন্যান্য সবজি আবাদ করা হয়।
সেখানকার চাষিরা বলেন, শত বছরের আড়িয়াল বিলের সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আড়িয়াল বিলের বাতাস, মাটি, পানি যেন এই অঞ্চলের মানুষের কাছে বেঁচে থাকার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কুমড়া চাষি ফজল বেপারী জানান, এ বছর প্রতি কেজি কুমড়া ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। তিনি তার ভিটা থেকে সর্বোচ্চ ৭২ কেজি ওজনের একটি কুমড়াও বিক্রি করেছেন। একটি মিষ্টি কুমড়া ২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সান্তনা রানী জানান, এ বছর আড়িয়াল বিলের শ্রীনগর অংশের প্রায় ১৯০ হেক্টর জমিতে কুমড়ার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৪২ থেকে ৪৫ টন করে কুমড়া পাওয়া যায়। কৃষকরা বর্ষা মৌসুম শেষে ভাসমান অবস্থায় কচুরিপানার মধ্যে কুমড়ার বীজ রোপণ করে যা বাংলাদেশে বিরল। চাষাবাদ শুরু হয় আশ্বিন মাসে আর ফাল্গুন মাসে বিক্রি শুরু হয় আড়িয়াল বিলের মিষ্টি কুমড়ার। এক একটি কুমড়া ১৫০ কেজি থেকে ২০০ কেজি পর্যন্তও হয়। এটা কোনো হাইব্রিড বীজ নয়। এখানকার কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে এ মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে আসছে। চাষিদের অনেকেই এই মিষ্টি কুমড়ার বীজ সংরক্ষণ করে রাখে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *