মিয়ানমারে সংখ্যালঘুহীন সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

আন্তর্জাতিক

অনলাইন ডেস্ক : মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু  স্থানীয় সময় রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সোমবার নির্বাচনের ফল পাওয়া যেতে পারে। খবর চ্যালেন নিউজ এশিয়ার।

এবারের নির্বাচনে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কিন্তু রাখাইন-শান-কাচিন-মন ও বাগো এলাকায় বাতিল করা হয়েছে ভোটগ্রহণ। এতে ভোটাধিকার প্রয়োগ বঞ্চিত হচ্ছেন ১৫ লাখ মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

এবারের নির্বাচনে ৯৩টি দল অংশ নিলেও অং সান সু চি’র দল- এনএলডি এবং প্রধান বিরোধী- ইউএসডিপি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেনা সমর্থন নিয়ে এবারও ভালো অবস্থানে আসবে সু চি’র দল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা অনেকটাই নিয়মরক্ষার নির্বাচন হতে যাচ্ছে৷

এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ও রাখাইন জাতিগোষ্ঠীকে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায় তাদের রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ৷ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে রাখাইন রাজ্যসহ ৫৬টি শহরে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে না৷

রাখাইন ও চিন রাজ্যের আটটি শহরে ইন্টারনেট সংযোগ এরই মধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ ফলে কেবল নির্বাচন নয়, করোনা নিয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে এসব এলাকায়৷ ২০১৯ সালের ২১ জুন সরকার রাখাইন স্টেটের আটটি টাউনশিপে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা এখনও বহাল রয়েছে৷

দেশটির ৫০ লাখ তরুণ ভোটার৷ ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এনএলডি সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন দমাতে শক্তি প্রয়োগ করেছিল৷ ফলে অল বার্মা ফেডারেশন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে৷

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন নির্বাচন আয়োজনের পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মিয়ানমারের সংবিধান৷ এটি অগণতান্ত্রিকও বটে৷ শুধু ৭৫ শতাংশ আসন পূর্ণ হয় জনগণের ভোটে, বাকি আসন শুধু মনোনয়ন৷ ২০০৮ সালে এ সংবিধান গ্রহণ করা হয়৷ এ সংবিধানের আলোকেই ২০১৫ সালে সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল৷ সংবিধানে এমনসব শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যাতে অং সান সু চি কোনোদিনই প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না৷

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *