মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রী কলেজের আইসিটি ভবন নির্মাণ কাজে ধীরগতি

সারাবাংলা

একরামুল হক লাবু, নীলফামারী থেকে
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রী কলেজের চার তলা আধুনিক আইসিটি ভবনের নির্মান কাজ সমাপ্তে ধীর গতির অভিযোগ উঠেছে। ভবনের চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দশ মাস ধরে ভবনের দরজা, জানালা ও আনুষাঙ্গিক কাজ অসমাপ্ত রেখে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারকে একাধিক বার বলার পরেও কাজ শুরু না হওয়ায় নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বন্ধ কাজ চালু করনের জন্য অভিযোগ করেছেন।
নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নাহার এন্টার প্রাইজ সেতাবগঞ্জ দিনাজপুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারি দরপত্র মূল্যে কাজটি পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ ভবনটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কাজ শুরুর তারিখ হতে ১৮ মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে কাজ সম্পাদনের জন্য চুক্তি বদ্ধ হয় প্রতিষ্ঠানটি। যার প্রাক্কলিত মূল্য ২ কোটি ২৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ভনটির কাজ শেষ না হলেও ইতিমধ্যে মধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকাদারকে বিল প্রদান করা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। এদিকে নির্দিষ্ট সময় সীমা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর কাজ সমাপ্তের নির্দেশনা থাকার পরও ১০ মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।
মীরগঞ্জহাট ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আবুজার রহমান বলেন, বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া করোনার কারনে এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ থাকায় যে কোন সময় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাহার প্রাইজের প্রোপাইটর মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ভবনটির অসমাপ্ত কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, কাজটি আমার প্রতিষ্ঠানের নামের কিন্তু কাজটি করছে নীলফামারী সদরের মোক্তার এন্টার প্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অসমাপ্ত কাজ সম্পাদনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে কাজ সমাপ্ত না হলে আইন অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *