মুক্তাগাছায় মন্দির নির্মাণে বাধা প্রদানের অভিযোগ : উদ্যোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ

সারাবাংলা

শাহ মোহাম্মদ রনি, ময়মনসিংহ থেকে : ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সার্বজনীন মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নিরবিচ্ছিন্নভাবে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ করতে চান ঠিকাদার ও মন্দিরের উদ্যোক্তারা। প্রতিবেশীরাও চান সুষ্ঠুভাবে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হোক। মুক্তাগাছা উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর পালপাড়ার ‘শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ ও রাম-সীতা বিগ্রহ সার্বজনীন মন্দির’ নির্মাণ নিয়ে চলছে এ ঘটনা। নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার পর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত বাধা দিয়েই যাচ্ছিল আশপাশের কু-চক্রি মহল। ঠিকাদারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে তাদের বাড়ির সড়ক এবং পাশ দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজে বাধা দিয়েই যাবেন। স্পর্শকাতর এ বিষয়টির সুরাহা চান এলাকাবাসী।
জানা যায়, ৮ বছর আগে নিজের ৫ শতাংশ জমির উপর সার্বজনীন এ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রঘুনাথপুর পালপাড়ার ব্রজেন্দ্র চন্দ্র পাল। পরে তার ছেলে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সহকারী বিধান চন্দ্র পাল মন্দিরের সভাপতির দায়িত্ব নেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট মন্দিরটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। সূত্র মতে, ২৫-০২-২০২১ তারিখে দৈনিক সমকাল এবং ডেইলি আওয়ার টাইম পত্রিকায় বিভিন্ন জেলায় ১০টি মন্দির নির্মাণের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এর পরই আশপাশের চক্রটি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করে। কয়েকদিন আগে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে আশপাশের বাড়ির লোকজন নির্মাণ সামগ্রী নিতে এবং নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা একজোট হয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আলোচনা করে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা চালানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। সূত্র মতে, মন্দিরের উদ্যোক্তারা নিরীহ, নানান ষড়যন্ত্র এবং পাশেই আরেকটি মন্দির থাকার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মন্দিরের কাছেই বাড়ি নারায়ণ চন্দ্র পাল, নিবাস চন্দ্র পাল (বান্দু), রবি চন্দ্র পাল, জগদানন্দ চন্দ্র পাল (খোকা), স্বপন চন্দ্র পাল, হারাধন চন্দ্র পাল, নয়ন চন্দ্র পাল, সুধাংশু চন্দ্র পাল, হরি মোহন পালসহ আরও ৭-৮ জন মন্দির নির্মাণে বাধা প্রদান করছেন। গতকাল শনিবারও তারা একজোট হয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা পরিশোধ না করলে তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নিতে বাধা প্রদান করা ছাড়াও মন্দির নির্মাণ করতে দিবেন না বলে হুমকি প্রদান করেছেন। বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইফতেকার রছুল চৌধুরী সুমন উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। মন্দির নির্মাণে বাধার বিষয়ে শনিবার মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, মন্দির কমিটির এক কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *