মুগদায় লিমা হত্যা ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম-বিয়ে, অতঃপর…

জাতীয় রাজধানী

এসএম দেলোয়ার হোসেন:
রাজধানীর মুগদার দক্ষিণ মান্ডা এলাকায় ক্লুলেস লিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রথমে প্রেম ও পরবর্তীতে বিয়ে হয় ওই তরুণীর। এরপর পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে বিয়ের ১১ দিনের মাথায় প্রেমিক স্বামীর নৃশংসতার শিকার হন লিমা আক্তার। ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত মো. জহির ইসলাম নিলয় (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় মুগদা থানা পুলিশ। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রলয় কুমার সাহা।
তিনি জানান, গত ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় মুগদা থানাধীন দক্ষিণমান্ডার হিরু মিয়া রোডের আব্দুল হাকিম মোল্লার বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং উক্ত ফ্ল্যাটটি ৫/৬ দিন যাবত তালাবদ্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেশীরা মুগদা থানা পুলিশকে জানায়। এমন খবরে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেই বাসা থেকে একজন নারীর পচা-গলা লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর পুলিশ ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে জানতে পারে, নিহতের নাম লিমা আক্তার। ঘটনার পর ভিকটিমের বড় ভাই মো. সুমন কাজী অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত ৫ নভেম্বর মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওসি প্রলয় কুমার সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁও থানার মোগড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের একটি দল। সেখান থেকে সন্দেহভাজন মূল অভিযুক্ত মো. জহির ইসলাম নিলয়কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নিলয় পুলিশকে জানিয়েছে- ফেসবুকের মাধ্যমে ভিকটিম লিমা আক্তারের সঙ্গে গ্রেফতারকৃতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর গত ২৫ অক্টোবর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরদিন থেকেই তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। ঘটনার দিন গত ৩০ অক্টোবর রাত ১১টায় ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে লিমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঘরে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় নিলয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *