মেহেরপুরে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইতে মিথ্যাচার

সারাবাংলা

মেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইতে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তিনি ও তার পরিবার সহ বীরমুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ।
বীরমুক্তিযোদ্ধারা জানান, হাজী মো: আমিনুল ইসলাম কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও শিক্ষা অনুরাগী। তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে তিনি বয়সে ছোট হলেও বিভিন্ন ভাবে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া তিনি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে হেয় করতে একটি মহলের ইন্দনে গাংনী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুর রশীদ মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইতে লিখেছেন মো: আমিনুল ইসলাম তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শান্তি কমিটিতে নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্ত মো: আমিনুল ইসলাম শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন না এমনকি বাধ্য হয়ে নামও লেখাননি কিংবা তালিকাভুক্তও হয়নি। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরম বন্ধু ও সহায়তাকারী ছিলেন।
কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও শিক্ষা অনুরাগী হাজী মো: আমিনুল ইসলাম বলেন,রফিকুর রশীদ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইতে লিখেছেন ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি (আমিনুল ইসলাম ) শান্তি কমিটিতে নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছেন এ কথাটি সম্পন্ন মিথ্যা বানোয়াট। রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে।
মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইয়ের লেখক গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক (অব:) রফিকুর রশীদ বলেন, কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো: আমিনুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শান্তি কমিটিতে নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানতে পেরেছিলাম। একারনে তার নাম দেয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বইটি লেখা হয়েছে। বইটি লেখার সময় বর্তমান সময়ের মত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলনা। তাই স্থানীয়দের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে বইতে ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। ইতো মধ্যে বেশ কয়েকজের নাম ভুল ভাবে এসেছে মর্মে লিখিত আবেদন দিয়েছে। কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাজী মো: আমিনুল ইসলাম কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য একটি লিখিত এবং বীরমুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যায়ন দিলে মুক্তিযদ্ধে মেহেরপুর জেলার ইতিহাস বই ২য় সংস্করণ বের হবে তখন নাম তার নাম বাদ দেয়া হবে।
গাংনী উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা বলেন,রাজনৈতিক কারনে কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাজী মো: আমিনুল ইসলামকে বির্তকিত করার চেষ্টা চলছে।
গাংনী উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিরুল ইসলাম বলেন,আমরা কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাজী মো: আমিনুল ইসলামের বিতর্কিত কর্মকান্ড দেখিনি কিংবা শুনিওনি।
গাংনী উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো: মকবুল হোসেন বলেন, কাথুলী ইউপি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাজী মো: আমিনুল ইসলাম শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন না। তিনি বিভিন্ন ভাবে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন। গাংনী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুর রশীদ মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইতে লিখেছেন মো: আমিনুল ইসলাম তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শান্তি কমিটিতে নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছেন। কথাটি সঠিক নয়। এধরনের অনেক গুনি ব্যক্তিবর্গের নাম ভুলভাবে মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইতে খেলা হয়েছে। পরবর্তী ২য় সংস্করণে সংশোধন করবে বলে রফিকুর রশীদ জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *