মোংলায় করোনা আইসোলেশন সেন্টার নেই অসুবিধায় মানুষ

সারাবাংলা

মিজানুর রহমান, মোংলা থেকে:
করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিত মোংলায় গত এক সপ্তাহে ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হলেও আক্রান্তরা পাচ্ছেন না কাঙ্খিত চিকিৎসা সুবিধা। চিকিৎসা পাবেন না জেনেই শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত অনেকেই নমুনা পরীক্ষা করতে চায় না।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মোংলাতে প্রতিদিন যেমন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তাদের সবার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে যারা বেশি অসুস্থ তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখানে আইসোলেশন, আইসিইউ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ বেশি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেলে ট্রান্সফার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাবে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন নিজেই রোগী।হাসপাতালে দুটি এম্বুলেন্স থাকলেও তা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। এছাড়াও প্যাথলজি বিভাগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অসহায় মানুষের একমাত্র ভরসা মোংলার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাসপাতালে গেলে শুধু নেই আর নেই। চলতি মাসের ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে মোট ১৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ। তার মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে মোট ৭জন। তবে সরকারি হিসাব মতে ৫ জনের তালিকা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. জিবিতেষ বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে দুই দিনের নমুনা পরিক্ষার পরিবর্তে ৬ দিন করা হয়েছে। এ ছাড়া যারা নমুনা পরিক্ষায় পজেটিভ হচ্ছে তাদের সুচিকিৎসার জন্য সকল পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আর আক্রান্তের অবস্থার অবনতি হলে এখানে যেহেতু সেন্টাল অক্সিজেন ও আইসিইউথর ব্যবস্থা না থাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় আবারও নতুন করে ৭ দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যা ১৩ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। করোনার সংক্রমণরোধে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্চাসেবকরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *