মৎস্য চাষে সফল শাখাওয়াত

সারাবাংলা

আব্দুল বাশির, গোমস্তাপুর থেকে
করোনা মহামারীতে দেশের পরিস্থিতি যখন নাজুক ঠিক তখনই ঘরে বসে না থেকে নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে শিক্ষিত বেকার তরুণদের আগ্রহের কমতি নেই। এমনই একজন তরুণ উদ্যোক্তা শাখাওয়াত। নিজ এলাকায় মৎস্য চাষ করে সফল হওয়ার পথে হাঁটছেন। বর্তমানে তার নিয়ন্ত্রণে ৬ টি পুকুর রয়েছে, যার পরিমাণ ৩০ বিঘা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন। মৎস্য চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছে আরও দুই তরুণ। তিনজনই তারা মাস্টার্স পাস। চাকরি যখন সোনার হরিণ তখন ঘরে বসে না থেকে উদ্যোক্তা হয়ে আয় রোজগার করা তাদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে কথা হলে শাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০০৬ সালে এসএসসি পাস করে আমি মৎস্য চাষে লেগে যাই। মৎস্য চাষ করাটা আমার নেশা। সে সময় আমি ৫ কাঠার একটি পুকুর লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করি। এছাড়া আমার একটি ফিস ফিডের দোকান রয়েছে। মৎস্য চাষের পাশাপাশি আমি লেখাপড়ায় জড়িত থাকি। এক পর্যায়ে আমি মাস্টার্স পাস করি। মাস্টার্স পাশ করার পরে আমি এ ব্যবসায় বেশি মনোনিবেশ করি। এখন এটাকে আমি পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি। যে পুকুরগুলোতে আমি মাছ চাষ করি তাতে আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার মাছ ছাড়া রয়েছে, এবং তাতে খরচ করা হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ৬ প্রজাতির মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকাপ, পাবদা মাছ। সামনে আবার উন্নত প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, গোমস্তাপুর ডঃ আবু বক্কর সিদ্দিক এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শাখাওয়াত হোসেনের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তাকে সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। করোনাকালীন প্রণোদনা, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মৎস্য চাষে কারিগরি সহযোগিতা সহ সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা যাতে এগিয়ে যেতে পারে এ লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য বিভাগ যথেষ্ট তৎপর। আমরা আশা করি শাখাওয়াতের মত অনেক বেকার তরুণ বসে না থেকে পুকুর, বিল ইত্যাদি নিয়ে মাছ চাষাবাদ করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *