ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় কেউ হয়রানি হবে না – ওসি শাহ কামাল আকন্দ

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহর কোতোয়ালি মডেল থানার সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড শিকারীকান্দা খামার বাজারে বিট পুলিশিংয়ের উঠান বৈঠক গত শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউদ্দিন বলেন, উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হলো আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিত রাখা। আপনারা পুলিশকে তখ্য দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। বিট পুলিশিং সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, মানুষের দোরগৌড়ায় পুলিশী সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ছোট খাট অপরাধের জন্য কাউকে থানায় অর্থ ও সময় নষ্ট করতে হবে না। প্রতিটি বিটে একজন করে পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। ওই কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি এলাকায় বসে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনা নিষ্পত্তি করে দিবেন। আর সম্ভব না হলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে মামলার সংখ্যা কমে আসবে। পাশাপাশি জনহয়রানি এবং আর্থিক অপচয় রোধ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নে দিন রাত কাজ করছেন। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাদক ব্যবসায়ী, চোর. গরু চোর, ছিনতাইকারী, জুয়াড়ি, কিশোর অপরাধী, প্রতারকসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সব অপরাধীদের গ্রেফতারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। তথ্যদাতাদের নাম গোপন থাকবে। এছাড়া কিশোর অপরাধের অণ্যতম কারণ হলো, মোবাইল। কিশারদেও হাতে স্মার্ট ফোন দিবেন না। কারণ এই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমেই তারা অপরাদের জগতে প্রবেশ করে। ওসি আরও বলেন, মুজিববর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার। এই মূলমন্ত্র নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। করোনাকালে সন্তান যখন মাকে ফেলে পালিয়ে গেছে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এটাই প্রমাণ করে পুলিশ জনতার। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যতদিন আছি কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি বা মামলা করতে কেউ কোন ধরনের হয়রানি হবে না। প্রতারক, দালালচক্র বা কেউ জিডি ও মামলা সংক্রান্তে কেউ টাকা বা অনৈতিক দাবি করলে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিট পুলিশিং সম্পর্কে তিনি বলেন, বিট অফিসারকে সহযোগিতা করুন, ছোট খাট অপরাধের জন্য মামলা না করে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হলে মামলার সংখ্যা কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থের অপচয় রোধসহ হানাহানি কমে আসবে। বিভিন্ন মামলায় দু-চার মাস বা সামান্য জেল জরিমানার সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অনেকেই বছরের পর বছর কিংবা আরো বেশি সময় ধরে সংসার, ব্যবসা বানিজ্য ও কৃষি কাজ ফেলে পলাতক রয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য ওসি বলেন, চু চার মাস বা বছরখানেকের জেল মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর সময় পলাতক জীবন কাটালেও জেল মাফ হবেনা। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকায় আপনার সংসার, ব্যবসা বানিজ্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। স্ত্রী সন্তান অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। সাজাপ্রাপ্ত পলাতকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, পলাতক জীবন অনেক কষ্টের। এই কষ্টের দিন বাদ দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। নিজের সংসার, ব্যবসা বানিজ্য ও স্ত্রী সন্তানদের হাল ধরুন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলাম। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন, এসআই দেবাশীষ রায়, বিট অফিসার এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন, মহানগরের ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদুর রশিদ রিপন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি জি এম এম মোফাছেছুর রহমান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাচ্চু। পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ও আওয়ামীলীগ দলীয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ সাইদুর রহমানের আয়োজকসহ সভায় তরুন আওয়ামীলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন বাবুল, ২৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম হোসেন হামিদ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সভায় আগতদের কাছ থেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে এলাকার সমস্যা, অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তাারিত তথ্য করা হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *