ময়মনসিংহে অবৈধ ট্রাক পিকআপ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস : ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ (তিন রাস্তার) মোড়ের অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের মেধা ও দায়িত্বশীলতায় রবিবার এই অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ হয়।

ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগ জানায়, দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে শম্ভুগঞ্জ (তিন রাস্তার) মোড়ে বিভিন্ন রাস্তায় চলাচলকারী ট্রাক ও পিকআপ চালকরা অবৈধভাবে স্ট্যান্ড গড়ে তুলে। অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডে প্রতিনিয়ত শতাধিক যানবাহন রাস্তা দখল করে থাকায় সব সময় যানজট লেগেই ছিল। এই তিন রাস্তার মোড় হয়ে ঢাকা- শেরপুর, ঢাকা- হালুয়াঘাট, ঢাকা- গৌরীপুর, ঢাকা- ফুলপুর, ঢাকা, নকলা, নালিবাড়ি, শেরপুর, ঝিনাইগাতি, ঢাকানেত্রকোণা সহ ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ- গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, ময়মনসিংহ-শেরপুর, নকলা, ময়মনসিংহ- হালুয়াঘাট, ফুলপুর, তারাকান্দা এবং ভৈরব হয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন রোডে চলাচলকালে প্রতিটি যানবাহন প্রায় আধা ঘন্টা আবার কখনো ঘন্টারও বেশি সময় যানজটে আটকা পড়ছে। এ কারণে যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। শুধু তাই নয়, শম্ভুগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ে সৃষ্ট যানজটের ফলে পাটগুদাম ব্রীজ পর্যন্ত যানজট লেগেই আছে।

যাত্রী সাধারনের মতে, শম্ভুগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ের অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডের কারণে সৃষ্ট যানজটে ঈদসহ বিশেষ সময়ে পাটগুদাম ব্রীজ থেকে শুরু করে শম্ভুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ, শেরপুর রোড, নেত্রকোণা পর্যন্ত শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠে। এ যানজটের কারণে ঈদ মৌসুম ও বিশেষ মৌসুমে আটকে পড়া অধিকাংশ যানবাহন রাত পেরিয়ে ঈদের নামাজের পরেও গন্তব্যে পৌছতে না পারার নজির রয়েছে। ঈদ ও বিশেষ মৌসুমে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ দুই তিন দিনব্যাপী সময় ধরে ঘর ফেরত মানুষদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌছাতে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে রাস্তায় সময় পার করতে থাকে। এর পরও ময়মনসিংহ জেলা ও ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বহীনতার শত অভিযোগ উঠে। ময়মনসিংহ পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগকে নিয়ে নানা সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।

জনমানুষকে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মাঠে নামেন। পাটগুদাম ব্রীজ থেকে শম্ভুগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তায় যানজটের কারণ সন্ধ্যান করেন। ট্রাফিক পুলিশের মতে, শম্ভুগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ে অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডের কারণে এ যানজট। ফলে ঢাকাসহ অন্যান্য রোডে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পড়ে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়ে। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, শম্ভুগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ে অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডই যানজটের প্রধান কারণ। যা বিশেষ মৌসুমে ঢাকা- ময়মনসিংহ রোডের উপরও চাপ পড়ে। তিনি বলেন, যানজটের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামানকে অবহিত করি। একটি সুন্দর ও সুষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট নিরসের লক্ষে পুলিশ সুপারের পরামর্শে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে মটর মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনা করি। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘ আলোচনাশেষে অবশেষে রবিবার এই তিন রাস্তার মোড় থেকে অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ বা অপসারণ করা হয়েছে। তিন রাস্তার মোড় দিয়ে চলাচলকারী হাজারো যানবাহন সোমবার ভোর থেকে নিবিঘ্নে চলাচল করতে শুরু করেছে। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আরো জানান, এই তিন রাস্তার মোড়ে আধুনিক ইন্টারসেকশন করার জন্য পুলিশ সুপার গত ৪ ফেব্র“য়ারী ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রশৌশলী বরাবর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পত্র দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *