ময়মনসিংহে করোনা উপসর্গে মৃত্যু ১৪ ॥ আক্রান্ত ১৪৭

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত চব্বিশ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতজন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও ১৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধী মৃতব্যাক্তিরা হলো ময়মনসিংহের সদরের তাসলিমা (২৮) ও ত্রিশালের সুরুজ আলী (৫০), জামালপুর সদরের আজিজুন নাহার (৩২) ও সরিষাবাড়ির সেলিনা (৪০), শেরপুর সদরের মো. হানিফ (৬০), নেত্রকোনা সদরের প্রিতীলতা (৮৫) ও গাজীপুরের শ্রীপুরের কোহিনুর (৩৮)। এ ছাড়া করোনা ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নগরীর আকুয়ার মোস্তাফিজুর রহমান (৮৫), ময়মনসিংহ সদরের আব্দুল মতিন (৫৮), আব্দুস সালাম (৪৪), ও দিঘারকান্দা এলাকার বিসুতুপ সাহা (৬৮) ও ফুলবাড়িয়ার নাসিমা (৩৫), শেরপুর সদরের আব্দুল জলিল (৭৫) এবং যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার জুলফিকার আলি (৮২) যারা মারা গেছেন বলে করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডাঃ মহিউদ্দিন খান মুন জানিয়েছেন । তিনি জানান, করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে নতুন ৪৩ জন ভর্তিসহ এখন পর্যন্ত ২৩৮ জন এবং আইসিউতে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২১ টি নমুনা পরীক্ষায় ১৪৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ২৩.৬৭ শতাংশ। জেলায় মোট শনাক্ত ৮ হাজার ১৮২ জন। সুস্থ হয়েছে ৭ হাজার ১৮৫ জন। মোট মৃত্যু ৮৪জন। ২৪ ঘন্টায় জেলায় শনাক্তকারীদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনসহ সদরেই রয়েছে ১০৮জন। অপরদিকে করোনা সংক্রমণরোধে সাত দিনের কঠোর বিধি নিষেধের দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীর প্রত্যেকটি প্রবেশ মূখ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হয়ে সঠিক কারণ দেখাতে না পারায় বেশ কয়েক জনকে আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়েছে। ওষুধ ও নিত্যপণ্য ছাড়া প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
নগরীর প্রধান প্রধান রাস্তাগুলো রয়েছে ফাঁকা। লকডাউনের প্রথম দিন বিধি নিষেধ না মানায় জেলায় ৫২৫টি মামলায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪৮০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলায় ৩৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীর ১০টি টিম, বিজিবি’র ৮টি টিমসহ র‌্যাব-পুলিশের ১৮টি টিম মাঠে কাজ করছে বলে জেলা প্রশাসক এনামুল হক জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *