ময়মনসিংহে গার্মেন্টে চুরির রহস্য উদঘাটন

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস:
ত্রিশালের বহুল আলোচিত গার্মেন্টেসের প্রায় ১০ লাখ টাকা চুরির দেড় বছর পর রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ। এঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভির অস্পষ্ট চলনভঙ্গি পর্যালোচনা শেষে গত রোববার তাদের গ্রেফতার করা হয়। গার্মেমেন্টের সহকারী সিকিউরিটি ইনচার্জকে ত্রিশাল থেকে ভালুকায় বদলীর ক্ষোভে এই দুঃসাহসিক চুরি হয়। গত সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবনাবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেÑ মোফাজ্জল হোসেন ওরফে জুয়েল মিয়া, মো. হানিফ, সেলিম হোসেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ত্রিশালের বাগান এলাকার টেক্সটাইল সিটি (কনজ্যুমার গার্মেন্টস লিঃ) এর ৫নং বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় কান্ট্রি ডিরেক্টরের অফিস কক্ষ থেকে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে তালা খুলে এবং লকার ভেঙে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়। এঘটনায় গার্মেন্টেসের সিকিউরিটি ইনচার্জ বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা নং-০৬, তাং-০২/১২/২০১৯ তারিখে দায়ের করেন। মামলাটি ত্রিশাল থানা পুলিশ ৭ মাস তদন্ত করে। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও জানান, ডিআইজি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় তার সহযোগিতায় মামলাটি এসআই পংকজ কুমার আচার্য মামলাটি তদন্ত করেন। গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামি জুয়েল টেক্সটাইল সিটি (কনজ্যুমার গার্মেন্টস লিঃ) গার্মেন্টেসে সহকারী সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিল। সে ও তার স্ত্রী এক সঙ্গে ত্রিশালে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসে চাকরি এবং টেক্সটাইলের কাছেই বাগান এলাকায় ভাড়া থাকতো। তাকে সেখান থেকে কনজ্যুমার নিটিং গার্মেন্টেস ভালুকায় বদলী করা হলে তার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভে সে স্থানীয় টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসে সিকিউরিটি গার্ড সেলিম, স্থানীয় বালুর ট্রাকের হেলপার হানিফ ও ডিসের লাইনম্যান আজিজের সঙ্গে মিলে এই চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী ১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে তিনটার দিকে হানিফ ও জুয়েল মিয়া কালো বোরকা পড়ে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসের দক্ষিণ পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে। এসময় হানিফের কাছে বিশাল একটি শাবল ছিল। অপরদিকে সিকিউরিটি গার্ড সেলিম ওই দিন ঘটনার আগে ২য় তলায় কান্ট্রি ডিরেক্টরের অফিস কক্ষে ঢোকার ফায়ার এক্সিট দরজার চাবি এনে জুয়েলকে দেয়। এদিকে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেস এর দক্ষিণ পাশে দেয়ালের বাইরে সেলিম ও আজিজ পাহারায় থাকে। হানিফ ও জুয়েল কৌশলে টেক্সটাইল সিটি (কনজ্যুমার গার্মেন্টস লিঃ) এর ৫নং বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় কান্ট্রি ডিরেক্টরের অফিস কক্ষের কাছে গিয়ে আগেই সংগৃহিত চাবি দিয়ে ফায়ার এক্সিট দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢুকে এবং হানিফের কাছে থাকা শাবল দিয়ে লকার ভেঙে ভিতরে থাকা বেতন ভাতাদির ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার বাক্সটি নিয়ে চলে আসে। পরবর্তীতে তারা চারজন ওই টাকা ভাগ করে নেয়।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ^াস আরও বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর গার্মেন্টেসে চুরির ঘটনা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হলে মামলার প্রকৃত আসামিদের শনাক্তের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্যে জব্দকৃত সিসিটিভি ফুটেজ বারংবার পরীক্ষা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে বোরকা পড়া একজন পুরুষের বিশেষ ভঙ্গিমায় মেয়েলী ভঙ্গিতে হাটার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়ে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টস এ কর্মরত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ গোপনে অনুসন্ধান করা হয়। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতা জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে নিবীড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসে চুরির কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরির সঙ্গে জড়িত হানিফ ও সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের গত সোমবার আদালতে পাঠানো হলে তারা প্রত্যেকেই নিজেকে জড়িয়ে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *