ময়মনসিংহে ভুয়া দাখিলা : ঘুষের বিনিময়ে অধিগ্রহণ জমি রেজিস্ট্রি

সারাবাংলা

নজরুল ইসলাম খান, ফুলবাড়ীয়া থেকে :
প্রায় দেড় মাস আগে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প ময়মনসিংহ জোন প্রকল্পের জন্য ১ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার নোটিশ দেওয়া হয়। এরপরও সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে সম্পত্তির দলিল করেন সাব-রেজিস্টার। ময়মনসিংহ ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের উৎকোচ পেয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার শামসুল আলম এই অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দকৃত জমি রেজিস্ট্রি করেন। অধিগ্রহণকৃত জমি পৌর সদরের লাহেরী পাড়ায় অবস্থিত। মৌজা- চকরাধাকানাই, জেএলনং-৬৬, দাগ নং- ৪০০৬। গত ৬ অক্টোবর জমিটির মালিক সত্যব্রত পাল সাড়ে ৮ শতাংশ জমি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যে নূরুল ইসলাম গংদের কাছে বিক্রি করেন। অথচ ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জমিটির অধিগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
অফিস সূত্রে জানা যায়, দলিল লেখকের সহকারী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ (শফি) ভুয়া দাখিলা প্রস্তুত সহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করেন। পরে সভাপতি কামরুজ্জামানের সনদ ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর কার্যকরি কমিটি সাইফুদ্দিন আহম্মেদ শফিককে বহিস্কার করেন।
কুশমাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, দাখিলা আমার অফিসের রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি নেই। ভুয়া-জাল দাখিলা কিভাবে করেছে তা আমার জানা নেই।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাব-রেজিস্টার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, দলিল লেখক কামরুজ্জামান মির্জা (দুলাল) বলেন, তফসিলভুক্ত অধিগ্রহণকৃত জমি ডিসি স্যার সাব-রেজিস্ট্রারকে জানালেও তিনি আমাদের কিছুই বলেননি। এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়ায় উপজেলা সাব-রেজিস্টার শামসুল আলম বলেন, অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির দলিল আমার অসচেতনতার কারণে হয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, অধিগ্রহণকৃত জমিটি বিক্রির বিষয়ে আমি কিছু জানি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *