ময়মনসিংহে ১০ টাকায় দু’দিনের আহার পেয়ে বস্তিবাসির শুকরিয়া

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস
নাম নাজমা খাতুন। বাড়ি চরাঞ্চলে। স্বামী পরিত্যক্তা। ভিটেমাটি কিছুই নেই। বর্তমানে বসবাস করছেন ময়মনসিংহ নগরীর থানাঘাট বস্তিতে। বস্তিতে ঘর-দরজা নেই বললেই চলে। কোন রকমে বসবাস করছেন দুই সন্তান নিয়ে। বস্তির সবাই তাকে নাজু বলেই ডাকে। এ অবস্থাতে বস্তিতেই বাস করছে ৮/৯ বছর ধরে। নেই নির্ধারিত কাজ। যখন যা পায় তাই করে দিন পার করেন। এর পরও চলছিল তাদের সুখের সংসার। চলমান লকডাউনে কোন ধরণের কাজ না থাকায় একেবারে বেকার হয়ে পড়ে নাজু। শুধু নাজু নয় এভাবে বস্তিবাসির প্রায় সবাই লকডাউনে চলছে। তাদের ঘরে চাল, ডাল লবণ নেই। এ অবস্থায় এগিয়ে আসে জেলা পুলিশ। সবার রান্না ঘরে ভাতের গন্ধ ছুটুক” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে দুঃস্থ/কর্মহীনদের জন্য স্বল্প¬ মুল্যের দোকান ১০ টাকায় দু’দিনের আহার বিক্রি কার্যক্রমের আওতায় মঙ্গলবার নগরীর মুকুল নিকেতন স্কুলে জেলা পুলিশ দেড় শতাধিক বস্তিবাসির কাছে দুদিনের আহার বিক্রি করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফাল্গুনী নন্দী বলেন, লকডাউনে মানবিক কারণে অসহায়, ছিন্নমূল, বস্তিবাসি, ও কর্মহীন মানুষদের পাশে রয়েছে জেলা পুলিশ। আমরা যতটুকু পারছি সহযোগীতা করছি।
তিনি আরো বলেন, মানবিক পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান জেলা পুলিশের আভ্যন্তরীণ সেচ্চা অনুদানের অর্থায়নে লকডাউনে নতুন করে বেকার, অসহায়, দুঃস্থ ও কর্মহীনদের পাশে দাড়িয়েছেন। সবার ঘরে রান্না ভাতের গন্ধ ছুটুক এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১০ টাকায় দুদিনের আহার বিক্রি করে আসছে। লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আহার বিক্রি চলমান রাখার দাবি করে জেলা পুলিশ।
বিতরনকৃত খাদ্যপন্যের মধ্যে ছিল, ৫ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, আধা লিটার সয়াবিন তেল, আধা কেজি লবন, দুই কেজি আলু, পরিমানমত মশলা, পেয়াজ, রসুন ও কাচা মরিচ। এ সময় ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, এসআই দেবাশীস সাহা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *