যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

সারাবাংলা

এইচএম কাওসার মাদবার, আমতলী থেকে
অগ্নি নির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া পাঠাগার, চায়ের দোকান, কাপরের দোকান, মুদি মনোহরদি, ক্রোকারিজ ও ইলেকট্রনিক্স দোকানসহ গ্রামের যত্রতত্র স্থানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে আমতলী। যে কোন সময় আমতলীতে ভয়াবহ অগ্ন্নিউৎপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভোক্তা পর্যায় মূল্যে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে না। ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয় মূল্য ৮৯১ টাকা, কিন্তু গ্যাসের সিলিন্ডার আমতলীতে বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকায়। দ্রুত যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। জানা যায়, আমতলী উপজেলায় পাঁচজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির পরিবেশক রয়েছে। ওই পাঁচজন ছাড়া উপজেলা শহরের পাঠাগার, চায়ের দোকান, কাপরের দোকান, মুদি মনোহরদি, ক্রোকারিজ ও ইলেকট্রনিক্স দোকানসহ গ্রামের যত্রতত্র দুই শতাধিক স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ওই সব দোকানগুলোতে গ্যাস বিক্রির সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। নেই অগ্নিনির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে আমতলী উপজেলা। যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিউৎপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারনা করেছেন সচেতন মহল। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ভোক্তা পর্যায় মুল্যে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছে না পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। তারা তাদের ইচ্ছামাফিক গ্যাস বিক্রি করছেন। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ৮৯১ টাকা। ওই এলপি গ্যাস বিভিন্ন কোম্পানীর পরিবশেকরা এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। লাইসেন্সবিহীন খুচরা বিক্রেতারা ওই গ্যাস ১১২০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। বুধবার আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে না। আমতলীর দোকানগুলোতে লাফস, জি-গ্যাস, ফ্রেস, টোটাল, নাভানা, জেএমআই, সেনা কল্যাণ, বেক্সিমকো, ওমেরা, ওরিয়ন ও বিএম কোম্পানীর গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ওই গ্যাসের সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতারা ১১২০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতারা বলেন, পরিবেশকদের কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয় করি আবার বেশি দামে বিক্রি করছি। এদিকে পরিবেশকরা বলেন, কোম্পানীর কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয় করি আবার বেশি দামে বিক্রি করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমতলীতে বসুন্ধরা কোম্পানীর গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবেশক মো. মহিউদ্দিন, জি-গ্যাস, বিএম ও ফ্রেস কোম্পানীর পরিবেশক আনিচুর রহমান বাচ্চু, সেনা কল্যাণ, টোটাল ও বেক্সিমকো কোম্পানীর পরিবেশক মো. রেজাউল কবির ও টোটাল, জেএম আই কোম্পানীর পরিবেশক জব্বার সিকদার এবং রাসেল ওরিয়ন কোম্পানীর পরিবেশক। এ পাঁচজন পরিবেশকের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু অগ্নি নির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া উপজেলায় দুই শতাধিক বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছা মাফিক গ্যাস বিক্রি করছে। সরকারি মূল্যের সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। গত ৩০ জুন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকা নির্ধারন করে দেন। ওই তালিকায় দেওয়া আছে ১২ কেজির প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ৮৯১ টাকা। কিন্তু আমতলী বাজারে ওই গ্যাসের সিলিন্ডার ১১২০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গ্যাস ক্রেতা মো. বাকী বিল্লাহ ও জাকির সিকদার বলেন, টোটাল কোম্পানীর গ্যাস ১১৫০ টাকায় ক্রয় করেছি। বৃন্দা পাঠাগারের মালিক কালা চাঁন বলেন, অল্প কয়েকটি সিলিন্ডার আছে। এগুলো বিক্রি করে আর করবো না। খুচরা বিক্রেতা মো. কবির গাজী বলেন, বেশি দামে পরিবেশকদের কাছ থেকে ক্রয় করি আবার বেশি দামে বিক্রি করছি।
পরিবেশক আনিচুর রহমান বাচ্চু বলেন, জিগ্যাস, ফ্রেস ও বিএম সিলিন্ডার এক হাজার ২০ টাকায় বিক্রি করছি। গ্যাসের সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, কোম্পানীর কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয় করি আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। তিনি আরও বলেন, অগ্নি নির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া যত্রতত্র স্থানে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশক রেজাউল কবির বলেন, টোটাল, সেনা কল্যাণ এক হাজার এবং বেক্সিমকো এক হাজার ৩০ টাকায় বিক্রি করছি। কোম্পানীর কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয় করি বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
আমতলী পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বিশ^াস বলেন, যত্রযত্র স্থানে গ্যাস বিক্রি করা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অন্যায়। দ্রুত যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের দাবী জানাই। আমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. তামিম হাওলাদার বলেন, গ্যাসের পরিবেশকদের অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স দেওয়া আছে। কিন্তু লাইব্রেরী, চায়ের দোকান, কাপড়ের দোকান, মুদি মনোহরদি ও ক্রোকারিজের দোকানে গ্যাস বিক্রির জন্য কোনো অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। এসব দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা বে-আইনি এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কায়সার হোসেন বলেন, যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না। অবৈধভাবে যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *