যমুনার ভাঙন অস্তিত্ব সংকটে দুই গ্রাম

সারাবাংলা

ইউসুফ হোসেন, নাগরপুর থেকে
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের দুইটি গ্রাম খাস তেবাড়িয়া এবং খাস ঘুনিপাড়া। যমুনা নদীর ক্রমাগত ভাঙ্গনের ফলে এলাকা দুটির অস্তিত্ব সংকটে এসে দাড়িয়েছে। দিন দিন ভিটে-বাড়ি ছাড়া হচ্ছে এখানে বসবাসরত প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা এবং একর একর আবাদি জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ে গেছে।
সরেজমিনে এসে দেখা যায়, প্রায় সলিমাবাদ তেবাড়িয়া বাজার এলাকার কাছে চলে এসেছে যমুনা নদী। বসত বাড়ির ভাঙ্গন নিজ চোখে দেখে কষ্ট বুকে চেপে দিন পার করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্কুল, মাদ্রাসা সহ অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নদীর ভাঙ্গনে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ঘর-বাড়ি বারবার স্থানান্তর করেই চলছে এলাকাবাসীর দিন-কাল, তবুও স্থায়ী সমাধান মিলছে না কোনোভাবেই। স্থায়ী টেকসই বাঁধ কেবল পারে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে।
অন্তত ৬ বার ঘর স্থানান্তর করা একজন বাসিন্দা কৃষক দনেজ তার দুঃখের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার পক্ষে আর ঘর স্থানান্তর করা সম্ভব নয়, ৬ বার জায়গা বদল করেছি, এখন কোথায় যাবো সেই চিন্তায় দিন কাটছে। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আলতাব হোসেন জানায়, পানি বাড়ার সাথে সাথে এবার আমার বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে, এই দুর্বিসহ অবস্থায় আর কেউ যেনো না পরে।
খাস তেবাড়িয়া এলাকার ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ রাজা মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ডে প্রায় ২,৭০০ ভোটার আছে। যমুনার ভাঙ্গনের ফলে এখানকার জনগণ অন্যত্র সরে যাচ্ছে। যাদের যাওয়ার জায়গা নেই তারা বিপাকে পড়ছে। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে কিছুই করতে পারছি না। এখানে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক এটাই দাবি। যমুনার ভাঙ্গনের ফলে জরুরী পদক্ষেপ হিসেবে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে প্রায় ৬,৫০০ জিও ব্যাগ ফেলে নদীর পাড় ভাঙ্গন ঠেকাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সোলায়মান ভূইয়া জানায়, নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য সাময়িক কাজ করছি আমরা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ একমাত্র স্থায়ী সমাধান করতে পারবে।
নদী বেষ্টিত নাগরপুর উপজেলার অন্যান্য আরো এলাকা নদীর ক্রমাগত ভাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েই চলছে, যার মধ্যে পাইকশা মাইঝাইল, চর সলিমাবাদ, ভুতের মোড়, শাহজানি, পাঁচতারা, ঘোনাপাড়া, কেদারপুর, আগদিঘলীয়া এলাকা অন্যতম। যমুনা এবং ধলেশ্বরী দুটি নদী নাগরপুর উপজেলাকে দিন দিন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করছে যার ফলে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে নদীর নিকটবর্তী এলাকা। সুতরাং নদী এলাকার জনসাধারণে জোরালো দাবী একটাই Ñআমরা ত্রাণ নয়, টেকসই স্থায়ী বেঁড়িবাধ চাই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *