যমুনায় নৌকা বাইচ চরাঞ্চলে একটু আনন্দ

সারাবাংলা

ইমরুল হাসান বাবু, টাঙ্গাইল থেকে
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মালতীপাড়া, গয়রাগাছা, গন্ধবপুর, কাজী বাজার এলাকার যমুনা নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার দিনব্যাপী হুগড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে এক উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিহুর ইসলাম খান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিঞ্জু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আক্তার, ছিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাদেক আলী। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আসা আশরাফ আলী বলেন, আমি ৬০ বছর যাবৎ নৌকা বাইচ দেখি। নৌকা বাইচের খবর শুনলে আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। আজকেও (রোববার) প্রায় পাঁচ শতাধিক টাকা খরচ করে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। নৌকা বাইচ দেখে খুবই ভালো লাগলো। গয়রাগাছা গ্রামের কবির মিয়া বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে যেমনে বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয় স্বজন আসে। ঠিক নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ওই সমান আত্মীয়-স্বজন এসেছে। সবাই নৌকা বাইচের অপেক্ষায় থাকে। এ নৌকা বাইচে আমরা অনেক আনন্দ উপভোগ করলাম।
হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হচ্ছে নৌকা বাইচ। বর্ষাকালে চরাঞ্চলের মানুষকে একটু আনন্দ দিতেই প্রতিবছরই এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। এতে ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ একটু হলেও আনন্দ পায়। একদিন হলেও আমাদের গ্রামের মানুষ অনেক উপভোগ করতে পারে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও আরও অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, নদী মাতৃক বাংলাদেশে বন্যাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হয়। প্রাচীনকাল থেকেই বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। করোনা পরবর্তী সময়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ একটু বিনোদনের জন্য নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে। সুন্দর একটি পরিবেশে নৌকা বাইচ দেখে অনেক ভাল লাগলো। টাঙ্গাইলের বাইরেও আশে পাশের আরও পাঁচ ছয়টি জেলা থেকে নৌকা বাইচে অংশ নিতে এবং বাইচ দেখতে এসেছে অনেক মানুষ। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে যমুনা নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম আলো, সোনার বাংলা, সোনারতরী, যমুনারতরীসহ বিভিন্ন রংবেরঙের ৪৫ টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ভূঞাপুর উপজেলার সোনারতরী প্রথম হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *