যাতায়াতে দুর্ভোগ

সারাবাংলা

তাইজুল ইসলাম, মহেশপুর থেকে:
সেতুর জন্য ১০ গ্রামের মানুষকে ১২-১৩ মাইল ঘুরে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। একই সেতুর এক পাশের মানুষদের অন্য পাশ থেকে কৃষিপণ্য আনতে চরম কষ্ট ভোগ করতে হয়। সেতুর অবস্থান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা কুদলা নদীতে। নদীর পূর্ব পাশে মাটিলা, লেবুতলা, যাদবপুর ও কানাইডাঙ্গা। পশ্চিম পাশে রয়েছে মকরধ্বজপুর, দরবেশপুর, রুলি, বৈরবা, মোমিনতলা, গোপালপুর, কুটিপাড়া, বাঁশবাড়িয়া, সামান্তাসহ প্রায় ১০টি গ্রাম। আর দক্ষিণে সামান্য দূরেই ভারতীয় সীমান্ত রেখা। তবে ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে একটি পাকা সেতু ছিল। এই সেতুর সূত্র ধরেই নদীর দুইপাড়ের মানুষের মধ্যে কৃষি ও বাণিজ্য গড়ে উঠে। তবে দেশ স্বাধীনের আগেই সেতুটি ভেঙে যায়। ফলে নদী পাড়ের দুইপাশের মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরে এখানে সেতু না হওয়ায় নদী পাড়ের মাটিলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার অপর পাশে থাকা প্রায় দুইশত বিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ বাঁশের সাঁকো। আর সুষ্ক মৌসুমে হেটে জল পার হয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। সেতুর পূর্ব পাশের গ্রাম মাটিলার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ ওয়াজেদ আলী জানান, আমাদের গ্রামের তরফদার পরিবারের নদীর ওই পাশে একশত বিঘা জমি ছিল। কিন্তু চাষ করার পর বাড়িতে আনতে অসুবিধার কারণে সে সব জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। নদীর পশ্চিমপাশে মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রুলি মাধ্যমিক স্কুল ও শহিদুল ইসলাম কলেজ এবং ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে। যেখানে আমাদের এলাকার ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে। বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের প্রায় ১২ কিলোমিটার ঘুরে স্কুল কলেজে যেতে হয়। সেতুর পশ্চিম পাশের গ্রাম মকরধ্বজপুর গ্রামের বাসিন্দা খেলাফত মন্ডল, দেলোয়ার হোসেন ও হবিবর রহমান জানান, সেতুটি করা একান্ত প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে দুইপাশের মানুষের কোনো যোগাযোগ থাকে না। ফলে লেখাপড়া, কৃষি বাণিজ্যসহ সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম শাহীদুল ইসলাম নদী পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, সেতুটি করার জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাশ হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র মাটিলা ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার সোহরাব হোসেন জানান, কোদলা নদীর প্রস্তাবিত এই ব্রীজটির পূর্ব পাশে অবস্থিত মাটিলা বিজিবি ক্যাম্প। নদীর পার হয়ে ও পাশে (পশ্চিম) আমাদের আরো তিন কিলোমিটার পর্যন্ত মাটিলা বিওপির আওতায় রয়েছে। যখন নদীতে পানি থাকে, তখন নদীর পশ্চিম পাশে কোন সমস্য হলে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সেতুটি না হওয়ায় কয়েক গ্রামের মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে আমরা সেতুটি তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *