যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ নার্সকে দিয়ে করোনা টিকা প্রদান শুরু

আন্তর্জাতিক

অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির মধ্যে নিউইয়র্কে সবচয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই নিউইয়র্ক থেকেই টিকাদান শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে মার্কিন সংস্থা ফাইজার এবং জার্মান সংস্থা বায়োএনটেক এর তৈরি টিকার প্রথম ডোজটি নেন সেখানকার এক নার্স স্যান্ড্রা লিন্ডসে। করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে ছিলেন স্যান্ড্রা। খবর রয়টার্সের

নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে এতদিন মূমূর্ষ রোগীদের সামলেছেন অ্যাফ্রো-আমেরিকান স্যান্ড্রা। নিজে থেকেই তিনি প্রতিষেধকের প্রথম ডোজটি নিতে এগিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে।

কুইন্সের লং আইল্যান্ড জিউইশ মেডিক্যাল সেন্টারে কর্মরত স্যান্ড্রা। সোমবার সকালে নর্থওয়েল হেল্‌থ এমপ্লয়ি হেল্‌থ সার্ভিসেস এর ডিরেক্টর মিশেল চেস্টারের তত্ত্বাবধানে সেখানেই তার উপর প্রতিষেধকের প্রথম ডোজটি প্রয়োগ করা হয়।

স্যান্ড্রার সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সে দেশের মানুষ এবং সংবাদমাধ্যম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টিকাকরণ শুরু হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে টিকাকরণ শুরু হওয়ার কৃতিত্ব নিতে নারাজ স্যান্ড্রা। অতীতে প্রতিষেধকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে। তাই কোভিডের টিকা নিয়েও খানিকটা সন্দেহের মেঘ জমেছিল তাদের মধ্যে।

সেই ভয় কাটাতেই তিনি এগিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন স্যান্ড্রা। প্রতিষেধকের প্রথম ডোজটি নেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘সুড়ঙ্গ যতই অন্ধকার হোক না কেন, আলোর দেখা মিলবেই। আমি চাই সকলে নির্দ্বিধায় প্রতিষেধক নিন।’

তাদের তৈরি প্রতিষেধকের দু’টি ডোজ করোনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে ফাইজার-বায়োএনটেক। প্রথম ডোজটি নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে স্যান্ড্রাকে। তবে পরিস্থিতি বুঝে সময়ের ব্যবধান এদিক ওদিক হতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *