যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ইলহানের বিল

আন্তর্জাতিক

ডেস্ক রিপোর্ট: সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় দায়ী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে মঙ্গলবার একটি বিল উত্থাপন করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ইলহান ওমর।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের অফিস থেকে প্রকাশ করা প্রতিবেদনে খাশোগি হত্যায় এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজকে দায়ী করা হয়েছে।-খবর আলজাজিরা ও হিলের

প্রতিনিধি পরিষদের মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান বলেন, এটা আমাদের মানবতার পরীক্ষা। যদি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকারের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে সমর্থন করে, তা হলে মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না-করার কোনো কারণ থাকতে পারে না— যেখানে আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমবিএস হত্যায় অনুমোদন দিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার এই বিলের কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কারণ এমবিএসকে শাস্তি দিতে অস্বীকার জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কোনো ভাঙন সৃষ্টি করতে চায় না।

এমবিএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে বাইডেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, মার্কিন-সৌদি সম্পর্ককে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ন্যান্সি পেলোসি বলেন, এমবিএসসহ সৌদি কর্মকর্তাদের নির্দেশে জামাল খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে—বিশ্ব যা আগে থেকেই জানত। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তা আরও নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু তার বক্তব্য থেকেও সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আহ্বানের প্রতিধ্বনি এসেছে। তিনি বলেন, খাশোগির স্মৃতিকে স্মরণ করে একটি আইন প্রণয়ন করবে হাউস।

খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিসের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ইলহান ওমর বলেন, যদি যুবরাজকে শাস্তি দেওয়া না হয়; তবে হত্যার মূল অপরাধীও নাজাত পেতে পারে বলে চিরদিনের জন্য একটি নজির হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, যুবরাজ যতক্ষণ পর্যন্ত সাজা থেকে রেহাই পেয়ে যাবেন; ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ, মানবাধিকার ও সৌদি ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বার্থ ঝুঁকিতে থাকবে।

বিলটিতে বলা হয়েছে, এমবিএসের বিরুদ্ধে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা তার সম্পদ জব্দ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট যুবরাজের সব লেনদেন নিষিদ্ধ করে দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *