যেতে চাই বহু দূর…

মতামত লিড ১

ঢাকা প্রতিদিনের জন্মদিন আজ। সাত বছর আগে এ দিনে আলোর মুখ দেখেছিল। ‘নতুন দিনের দৈনিক’- এ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ঢাকা প্রতিদিন। অদম্য মনোবল আর প্রচণ্ড দুঃসাহস পুঁজি করে শুরু হয়েছিল আমাদের পথচলা। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রাপথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নানান বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে সাত বছর পেরিয়ে আট বছরে পা দিল ঢাকা প্রতিদিন। আজ এ শুভদিনে তাদের কথা না বললেই নয়, ঢাকা প্রতিদিন এর ডিক্লারেশন নিতে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ পুলিশের সদ্য সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (রাজনৈতিক) মাহবুব হোসেন, ঢাকার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আর পত্রিকাটি বাজারে আসার পর যাদের সহযোগিতা অনস্বীকার্য, তাদের মধ্যে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত হোসেন, উপ-পরিচালক ইয়াকুব আলী, সাবেক তথ্যমন্ত্রীর এপিএস আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম, সহকর্মী মাহতাব, শুভ, ঢাকা প্রতিদিন এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও আমার সহধর্মিণী নার্গিস আক্তার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাদের সহযোগিতা না পেলে কাগজটি যাত্রাপথেই হয়তো মুখ থুবড়ে পড়ত। আমার আরো একটি সন্তানের মতোই ঢাকা প্রতিদিন। পত্রিকাটির জন্ম আমার হাতে কিন্তু একে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে প্রিয়পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের ভূমিকাই বেশি। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রিন্ট পত্রিকা বের করে টিকিয়ে রাখা রীতিমতো দুঃসাহসিক কাজ। সাত বছর আগে আমি এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রা শুরু করেছিলাম আমার কয়েকজন বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীর সহযোগিতায়। যাদের সহায়তা না পেলে পত্রিকাটিকে হয়তো এ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হতো না। নানান সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকা প্রতিদিনকে এখনো একটি স্বপ্নের দৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। তবে, পরিপূর্ণ দৈনিক করার প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই আমাদের। পত্রিকা বা মিডিয়ায় টিম ওয়ার্ক জরুরি। যে মিডিয়ার টিম স্পিরিট যতো ভালো সেই মিডিয়ার অবস্থান ততো সুদৃঢ় এবং গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসা ও সমর্থন না পেলে ঢাকা প্রতিদিন কখনোই আজকের অবস্থানে আসতে পারতো না। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার এ যুগে প্রিন্ট পত্রিকার পাঠক ধরে রাখতে হলে বহুমুখী সংবাদ ও খবরের পেছনের খবর থাকাটা জরুরি। আমরা প্রথম থেকেই এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছি।
আমরা যেতে চাই বহু দূর। সম্প্রতি ছাপার কাগজ নিউজপ্রিন্টের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিজ্ঞাপনের সাইজও হয়েছে ছোট, তার উপর করোনা মহামারি। সব মিলিয়ে সংবাদপত্রের সামনে আরো দুর্দিন অপেক্ষা করছে। তাই প্রিন্ট পত্রিকা টিকিয়ে রাখাই এখন এক ধরনের লড়াই। অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ তাৎক্ষণিক মুছে ফেলা যায়। কিন্তু ছাপা সংবাদ মুছে ফেলার সুযোগ নেই। কারণ ‘প্রিন্ট ইজ প্রুফ’ (ছাপাই প্রমাণ)। এ জন্যই আমি আশাবাদী, যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন প্রিন্ট পত্রিকা টিকে থাকবে। ভবিষ্যতে অতীত হবে না ছাপা কাগজ। সম্প্রতি ঢাকা প্রতিদিন এর ই-পেপার ও অনলাইন পোর্টাল আপগ্রেড করা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে একে একটি পূর্ণাঙ্গ পত্রিকা হিসেবে পাঠকপ্রিয় কাগজে পরিণত করা হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থন-সহযোগিতা। আশা করি, আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতার হাত আগের মতো প্রসারিত থাকবে। আরো একটি কথা না বললেই নয়, গত বছর ভয়াবহ করোনা মহামারি শুরু হলে বিশেষ করে ঢাকা থেকে প্রকাশিত বেশকটি জাতীয় দৈনিক তাদের নিয়মিত প্রকাশনা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। কিন্তু আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রকাশনা অব্যাহত রাখি। একদিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি ঢাকা প্রতিদিনের প্রকাশনা। পরিশেষে ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রিয়পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন। সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। যতই সংকট থাকুক, প্রতিকূলতা আসুক, নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে আমরা যেতে চাই বহু দূর।
সম্পাদক, ঢাকা প্রতিদিন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *