যেভাবে স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয় ‘পেগাসাস’

তথ্য প্রযুক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট : ইসরায়েলি সংস্থা এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে কয়েক হাজার সরকারি কর্মী, সাংবাদিক, বড় রাজনীতিবিদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে। এ তালিকায় আছে কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানও। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৬ সাল থেকে এনএসওর গ্রাহকেরা এসব নম্বরে আড়ি পেতেছে।

তথ্য ফাঁসের জন্য প্রথমে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অন্য একটি হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে ভিডিও কল দেয়। যখন কোনও সন্দেহহীন ব্যবহারকারীর ফোন বেজে ওঠে, তখন ওই নম্বরে একটি ক্ষতিকর কোড চলে গিয়ে স্পাইওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। কেউ ফোন রিসিভ না করলেও সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

এরপর আক্রমণকারী ফোনের পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, একবার স্পাইওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে গেলে সহজেই যে কারও হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজিং ও কথা বলা, ভয়েস কল, পাসওয়ার্ড, কন্টাক্ট তালিকা, বিভিন্ন ইভেন্টের ক্যালেন্ডার, ফোনের মাইক্রোফোন এমনকি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ও তাদের হাতে চলে যায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব পরিচালনাকারী ক্লডিও গার্নিয়েরি গার্ডিয়ানকে বলেন, একবার কোনও ফোনে (স্মার্টফোন) পেগাসাস সফটওয়্যার ঢুকে গেলে এনএসও’র গ্রাহক পুরো ফোনটির দখল পেয়ে যায়। ‘ফোনের মালিকের মেসেজ, কল, ছবি, ই-মেইল সবই দেখতে পাবে, গোপনে ক্যামেরা কিংবা মাইক্রোফোন চালু করতে পারবে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের মতো এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপের বার্তাগুলোও পড়তে পারবে’ যোগ করেন তিনি।

স্পাইওয়ার থেকে ফোনকে যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন

ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ফোনে অপরিচিত সাইটের লিংক আসলে তাতে প্রবেশ করবেন না। আপনার ফোন যেন অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সব ধরনের লক চালু করে দিন। ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোকে এনক্রিপ্ট করে রাখুন। যাতে ফোন সাইবার হামলার স্বীকার হলেও দুর্বৃত্তরা আপনার তথ্য চুরি করতে না পারে। ফোনের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপস আপডেট করবেন না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *