যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় শরীরে আগুনের ছেকা

সারাবাংলা

শফিকুল ইসলাম কুদ্দুস, নেত্রকোনা থেকে :
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গুজিরকোনা গ্রামের মো. ইলিয়াস আহম্মেদ(২৮) ও তার মা মোছা. রেহেনা খাতুনের (৪৩) বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য বাড়ির গৃহবধূ মোছা. নূরন্নেহার ওরফে নূর নাহারকে (২৪) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের দাবী মেটাতে না পাড়ায় তার শরীরে আগুনের ছেকা দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত মামলার কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা বাদী মোছা. নুরন্নেহারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি প্রদান করছে আসামিরা।
অভিযোগে জানা গেছে, সদর উপজেলার কে. গাতী ইউনিয়নের হরিদাসপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিনের মেয়ে মোছা. নুরন্নেহার ওরফে নূর নাহারের সাথে প্রায় দুই বছর আগে পাশর্^বর্তী জেলার দুর্গাপুরের গুজিরকোনা গ্রামের মো. গাজী রহমানের ছেলে মো. ইলিয়াস আহম্মেদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে খাট, আলনা, সুকেচ, স্বর্ণের আংটি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পর বাবার বাড়ি থেকে আরও এক লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে বেকার স্বামী ইলিয়াস আহম্মেদ ও তার মা রেহেনা খাতুন। এ নিয়ে নূরন্নেহারকে প্রায়শই শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করা হত। গত ৮ জুন নূরন্নেহারের ভাই আলী আকবর বোনকে দেখার জন্য তার স্বামীর বাড়ি হরিদাসপুরে আম, কাঠাল, ছিড়া, মুড়ি নিয়ে যায়। ভাই চলে গেলে নূরন্নেহারকে যৌতুকের কথা বলেছে কি না জিজ্ঞেস করে। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে ঘর থেকে বের করে মাটিতে ফেলে নির্যাতন শুরু করে। চুলার জ¦লন্ত লাকড়ি দিয়ে হাতে পিঠে আগুনের ছেকা দেয়। গৃহবধূর স্বামী ইলিয়াস আহম্মেদ গলা চাপিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে করে নূরন্নেহার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলে গৃহবধূর বাবাকে জানানো হয় তার অসুখ হয়েছে। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে সঙ্গাহীন ও অগুনে পুড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে ভাই আলী আকবর চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ এসে আহত গৃহবধূকে স্থানীয় চিকিৎকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে দুইদিন পর নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে গত গত ২১ জুলাই মোছা. নূরন্নেহার ওরফে নূর নাহার বাদী হয়ে স্বামী মো. ইলিয়াস আহম্মেদ ও শাশুড়ি মোছা. রেহেনা খাতুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলা দায়েরের প্রায় চার মাসেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি প্রদান করছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, মামলার আসামি গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হুমকি দেয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *